বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিভিন্ন সংঘবদ্ধ চক্র। প্রক্সি, ব্লুটুথ ডিভাইস, এমনকি বাইরে থেকে প্রশ্নের সমাধান করে কেন্দ্রে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে এসব চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে। সংঘবদ্ধ এসব চক্রকে প্রতিহত করতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বাংলাদেশ বিমানের কয়েকটি পদে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ২২ ফেব্রুয়ারি এমটি অপারেটর ক্যাজুয়াল পদের লিখিত পরীক্ষা রয়েছে। এছাড়াও জুনিয়র অপারেটর (ক্যাজুয়াল), জুনিয়র মেকানিক (জেএসই), জুনিয়র ইলেকট্রিশিয়ান পদের লিখিত পরীক্ষার তারিখও শিগগিরই ঘোষণা করা হবে। এসব পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন চক্র সক্রিয় হচ্ছে। টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের পাস করানোর নানা ফন্দি আঁটছে তারা। বিশেষ করে প্রক্সি ও ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে প্রশ্নের উত্তর সরবরাহের চেষ্টা চলছে। এ সংক্রান্ত নানা ধরনের তথ্য কর্তৃপক্ষের কাছে আসছে। এ কারণে আগাম সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি গ্রাউন্ড সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রক্সি দিতে আসা তিন জনকে আটক করা হয়। পরে তাদেরকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবেরটরি ইনস্টিটিটিউট কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী মো. সজিব সরদারের প্রক্সি দিতে এসে আটক হন আফজাল হোসেন বাদশা (৩৫) নামে একজন। তাকে মিরপুর মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিএএফ শাহীন কলেজ তেজগাঁও কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী মো. মনিরুজ্জামান (২৮) ডিজিটাল ডিভাইস ব্লুটুথের সাহায্যে বাইরে থেকে প্রশ্নের উত্তর সংগ্রহের সময়ে আটক হন। তাকে কাফরুল থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং সিভিল এভিয়েশন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কুর্মিটোলা কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী মো. মোরসালিন হোসাইনের প্রক্সি দিতে এসে আটক হন আরিফুল ইসলাম (২৯) নামে একজন। তাকেও বিমানবন্দর থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ দফতরের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের কাছে আগে থেকে বিভিন্ন ধরনের চক্রের বিষয়ে তথ্য ছিল। আমরা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মাধ্যমে সতর্কও ছিলাম। গ্রাউন্ড সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে এর প্রমাণও পেলাম।’
তিনি বলেন, ‘ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে অনুরোধ জানানো হয়। সামনের পরীক্ষাগুলোতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি।’