‘ছুটি হলেই মায়ের হাতের ইফতারের স্বাদ পাবো’

‘ক্যাম্পাস ও টিউশন ছুটি হতে ২০ রোজা হয়ে যাবে। ততদিন বাইরের ভাজাপোড়া খেয়েই থাকতে হবে। কেনা ইফতারের মান ভালো হোক বা না হোক, বলতে পারেন অনেকটা বাধ্য হয়ে খাওয়া। মনকে সান্ত্বনা দিচ্ছি এই বলে—ছুটি হলেই মায়ের হাতের ইফতারের স্বাদ নিতে পারবো।’

কথাগুলো বলছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আবির হাসান। বিকালে পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে এসেছিলেন তিনি মেসের সবার জন্য ইফতার কিনতে। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল পথের ধারের এসব ভাজাপোড়া স্বাস্থ্যসম্মত কিনা?

আবির বলেন, ‘এই জায়গাটায় অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কবি নজরুল কলেজ, সোহরাওয়ার্দী কলেজ, মহানগর মহিলা কলেজসহ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগ শিক্ষার্থী লক্ষ্মীবাজার ও পার্শ্ববর্তী কলতাবাজার, কাগজীটোলা, রোকনপুর, সূত্রাপুর এলাকায় থাকেন। ফলে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই ইফতার সংগ্রহে এখানে আসেন।’
IMG-20250303-WA0034 (1)
পাশেই ইফতার কিনছিলেন সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থী আজাদ রহমান। তিনি বলেন, ‘ইফতারের দাম গত বছরের তুলনায় যে খুব বেড়েছে তা নয়। তবে দেশে মূল্যস্ফীতির প্রভাব সবার পকেটে পড়েছে। আগে ২০০ টাকায় মেসের সবাই স্বাচ্ছন্দ্যে ইফতারি করতে পারতাম। কিন্তু এখন ২০০ টাকায় কেনাকাটা করা কঠিন হয়ে যায়। ফলের দাম একটু বেশি মনে হলো। তরমুজ এক স্লাইসের দামই ৩০ টাকা। ছোট আনারসের পিস ৩০ টাকা। রোজায় ফল খাওয়া দরকার। কিছুই করার নেই।’

পুরান ঢাকায় স্ট্রিটফুডের জন্য বিখ্যাত লক্ষ্মীবাজার এলাকা। বিকাল থেকেই দেশি-বিদেশি বাহারি খাবারের আইটেম বসে সড়কের দুই পাশে। রমজান মাস উপলক্ষে বেশিরভাগ স্ট্রিটফুডের দোকানই বন্ধ থাকলে তার বদলে ইফতার আইটেমের পসরা সাজিয়েছেন দোকানিরা। শুধু লক্ষ্মীবাজার নয়—পার্শ্ববর্তী নারিন্দা, সদরঘাট ও ইসলামপুর এলাকায়ও বসেছে জমজমাট ইফতারের বাজার। এসব এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাহারি ইফতারের বিকিকিনিতে ব্যস্ত সময় কাটছে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েরই। হাঁকডাক করে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টাও করেছেন দোকানিরা। বিভিন্ন ইফতারের দোকান ঘুরে দেখা গেছে—ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজু, আলুর চপ কিংবা বেগুনির বাইরে শত পদের ইফতার টেবিলে সাজানো হয়েছে।

IMG-20250303-WA0036বেশির ভাগ দোকানেই পেঁয়াজু, বেগুনি ও আলুর চপ বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস ৫ টাকা করে। আবার কোথাও একটু বড় সাইজের বেগুনি বা চপ ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পাকোড়া বিক্রি হচ্ছে প্রতিপিস ১০ টাকায়, সমুচা-শিঙাড়া ১০ টাকা, রোল ৩০ টাকা, রুমালি পরোটা ৬০ টাকা, চিকেন ছাবলি ৩০ টাকা, জালি কাবাব ২০ টাকা, সাসলিক কাবাব ৪০ থেকে ৫০ টাকা। আর প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলা (বুট) বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায়, বুন্দিয়া ২০ টাকা প্যাকেট।  প্রতি পিস জিলাপি ১০ টাকা, প্রতি ১০০ গ্রাম জিলাপি ২৫ টাকা, ১০০ গ্রাম রেশমি জিলাপি ৪০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। আর ৫০০ গ্রাম হালিম বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮৫০ টাকায়, আর বড় বাটি বা ১ কেজি বিক্রি হালিম হচ্ছে ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকায়।

লক্ষ্মীবাজারের বিক্রেতা দেলোয়ার হোসেন বলেন,  এবার সেভাবে কিছুরই দাম বাড়েনি। মানুষ কিনছে তবে কিছুটা কম। সবারই হাত টানাটানি। ভাজাপোড়া ছাড়াও তো ইফতার হয়। ইফতারের আগ মুহূর্তে বিক্রি জমে ওঠে। তারপরও যা কেনাকাটা হচ্ছে আমরা খুশি। মানুষ চপ, পেঁয়াজু, বেগুনি, ছোলা, বুন্দিয়া, জিলাপি বেশি কিনছে।

ইফতারি কিনতে আসা শামসুল হক খান বলেন, বাসায় ছোলা আর চপ বানায় গিন্নি। বাইরে মূলত হালিম, জিলাপি, বুন্দিয়া আর ফল কিনতে আসা হয়। ফলের দাম একটু বেশিই। অন্যান্য জিনিসের দাম স্বাভাবিক আছে। সবসময়ই লক্ষ্মীবাজার থেকে ইফতার কেনা হয়। এখানে খাবারের মান খারাপ না। বাসার কাছে হওয়ায় এখান থেকেই ইফতার নেওয়া হয়। তবে অন্য বছরের তুলনায় এবার ইফতারের বাজার কম জমজমাট।

IMG-20250303-WA0022