রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কুখ্যাত ‘কবজিকাটা গ্রুপ’-এর অন্যতম সহযোগী ‘আয়েশা গ্রুপের’ প্রধান মো. আসাদ ওরফে আরশাদ ও তার সহযোগী ইউসুফকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই ও হামলার কাজে ব্যবহৃত ছয়টি সামুরাই।
রবিবার (১৩ জুলাই) ঢাকা জেলার সাভারের ভাকুর্তা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে র্যাব-২ এর একটি দল। সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুরে কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. খালিদুল হক হাওলাদার।
র্যাব জানায়, মো. আসাদ ওরফে আয়েশা দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িত। সন্ত্রাসী কবজিকাটা আনোয়ারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছিল সে। ‘আয়েশা গ্রুপ’-এর নেতৃত্বে থাকা আসাদ একাধিকবার বিভিন্ন ব্যক্তিকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।
অতিরিক্ত ডিআইজি মো. খালিদুল হক হাওলাদার বলেন, ২৯ জুন আদাবরে মাদক সংক্রান্ত বিরোধে রাজু (২৫) নামের এক যুবককে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে আসাদ ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় পরদিন আদাবর থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়।
আসাদ জন্মসূত্রে আদাবরের বাসিন্দা। একসময় রাজমিস্ত্রির কাজ করলেও পরে কবজিকাটা আনোয়ারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অপরাধ জগতে প্রবেশ করে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে আদাবর থানায় হত্যা চেষ্টা, ডাকাতি, ছিনতাই ও চুরিসহ মোট সাতটি মামলা রয়েছে।
দিন-রাতে ছিনতাই, রাতে বাসাবাড়িতে হানা
খালিদুল হক হাওলাদার বলেন, গ্রেফতারকৃতরা দিনের বেলায় ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে নির্জন স্থানে পথচারীদের টার্গেট করে ছিনতাই করত। রাতে তারা ফ্ল্যাটবাড়ি বা চলন্ত গাড়ি থামিয়ে অস্ত্রের মুখে সর্বস্ব লুটে নিতো। নগদ অর্থ, মোবাইল, ল্যাপটপ, ব্যাগসহ যেকোনো মূল্যবান সামগ্রী ছিল তাদের প্রধান টার্গেট।
আসাদের অন্যতম সহযোগী ইউসুফও একাধিক অপরাধে জড়িত বলে জানিয়েছে র্যাব। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে পাঠানো হবে।