ছিনতাইকারীকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার জেরে খুন, গ্রেফতার ২

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স হিসেবে কাজ করা আল আমিন ওরফে পাতা আল আমিন (২৬) হত্যা মামলার এক ও দুই নম্বর আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‍‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

শনিবার (১৯ জুলাই) ভোলার চরফ্যাশন থানাধীন বেতুয়া লঞ্চঘাট থেকে যৌথ অভিযান চালিয়ে মো. মোশারফ হোসেন (২৬) ও মো. রিপন ওরফে গিট্টু রিপন (২৪) নামের দুই আসামিকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-২ ও র‌্যাব-৮। র‍্যাব-২ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার খান আসিফ তপু এ তথ্য জানান।

র‌্যাব জানায়, রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এক ছিনতাইয়ের ঘটনায় আল আমিন কিশোর গ্যাং লিডার মোশারফের ছোট ভাই মান্নানকে পুলিশে ধরিয়ে দিতে সাহায্য করেছিলেন। এর প্রতিশোধ হিসেবেই আল আমিনকে নির্মমভাবে হত্যা করে গ্রেফতার ব্যক্তিরা।

খান আসিফ তপু জানান, গত ১৬ জুলাই সন্ধ্যায় মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন আল আমিন। এ সময় আসামি মোশারফের নেতৃত্বে রিপনসহ আরও কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্য তাকে ঘিরে ফেলে। ধারালো সামুরাই দিয়ে কুপিয়ে তার ডান পায়ের হাঁটুর রগ ও ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি কেটে ফেলে। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরদিন নিহত আল আমিনের মা মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। এতে মোশারফ ও রিপনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করা হয়।

র‌্যাব জানায়, এক নম্বর আসামি মোশারফ পেশায় রিকশাচালক হলেও সে দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুর এলাকায় কিশোর গ্যাং চালাতো। ছিনতাই, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, চুরি ও হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। সে এর আগেও একাধিকবার গ্রেফতার হয়ে জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়েছে।

দ্বিতীয় আসামি রিপন ওরফে গিট্টু রিপন পেশায় রংমিস্ত্রি। তবে সে মোশারফের নেতৃত্বে ছিনতাই, মাদক কারবার ও সহিংস কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে ভবিষ্যতে আরও অভিযান চালানো হবে বলে জানায় সংস্থাটি।