আইডি কার্ডে নেই অভিভাবকের নম্বর, জানেন না সন্তান কোন হাসপাতালে

রাজধানীর উত্তরায় সামরিক প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। শিশুটির একটি পোড়া আইডি কার্ডের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই আইডি কার্ড অনুযায়ী শিশুটির নাম মো. জুনায়েত হাসান। সে তৃতীয় শ্রেণির বাংলা মিডিয়ামের শিক্ষার্থী। শিশুটি যখন ভর্তি হয়েছে, তখন তার বাবা হয়তো জানেনও না তার সন্তান বেঁচে আছে, কোথায় আছে। আরেক নিথর দেহের ওপর একটি আইডি কার্ড রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন পোস্ট দেন— ওকে আমরা হারিয়েছি, কিন্তু তার অভিভাবকের খোঁজ পাওয়া যায়নি। কিন্তু সন্তানকে রেখে বাবা-মা কি ঘরে বসে ছিলেন। হন্যে হয়ে খুঁজছিলেন জানের টুকরাকে।

ফেসবুকজুড়ে প্রশ্ন ঘুরছে— অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের আইডি কার্ডে অভিভাবকের ফোন নম্বর কেন থাকবে না। যেকোনও দুর্ঘটনাই ঘটতে পারে। সেক্ষেত্রে শিশুটির সুরক্ষার জন্য কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া থাকে।

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় এ পর্যন্ত ২০ জন নিহতের কথা জানিয়েছে আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর)। আহত হয়েছেন ১৭১ জন। নিহতদের মধ্যে বিমানটির পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামও রয়েছেন।

ঘটনার পরপরই যে যেভাবে পেরেছেন শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। যে অভিভাবকরা বাইরে ছিলেন, তারাও সন্তানের সব সহপাঠীদের চিনে নিয়ে তাদের অভিভাবকদের জানাতে পারেননি। ফলে ঘটনার পরের তিন-চর ঘণ্টা কেটেছে চরম উৎকণ্ঠায়। অনেক শিশুর অভিভাবক তাকে খুঁজছেন, আবার অনেক শিশুকে আইডিসহ পাওয়া গেলেও বাবা-মাকে যোগাযোগ করা যায়নি দেখে, ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে খুঁজতে হয়েছে। তেমনই একজন নিরাপদে থাকা সন্তানের পোস্ট ঘুরতে থাকে ফেসবুকে, যেখানে বলা হয়—এই বাচ্চাটাকে কেউ চিনলে জানাবেন প্লিজ? ও আমার স্কুল ফ্রেন্ডের ভাইয়ের অফিসে আছে, সেফ আছে। তবে ও ওর কোনও ঠিকানা পরিচয় কিছু বলতে পারছে না।

শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করেন যারা তারা বলছেন, যেকোনও দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবারের সঙ্গে  প্রথমেই যোগাযোগের দরকার হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে সেটাতো একমাত্র উপায়। বাবা- মা যে শিশুকে স্কুলে রেখে যাচ্ছেন, সেখানে সে যদি দুর্ঘটনার শিকার হয়, তবে তার আইডি তার পরিচয় বহন করবে। তার বাবা-মাকে কল করার পরিস্থিতিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ না থাকলে, আইডিতে থাকা নম্বরই একমাত্র উপায়। ফলে এটা বিবেচনায় নিতে হবে।

শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করেন গওহার নঈম ওয়ারা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দুর্ঘটনায় নিখোঁজের খোঁজ পাওয়াতো একটা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে যায়। বাবা-মায়েরা সন্তানকে কোন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, সেটাই বের করতে পারছেন না। স্কুল কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থী সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে।’

শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ আব্দুল্লা আল মামুন মনে করেন, সাধারণত অধিক নিরাপত্তার স্বার্থে বাবা-মায়ের ফোন নম্বর থাকে না। এ ধরনের দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে এটা স্কুল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তারা সে অবস্থায় আছে কিনা, সেটা দেখার বিষয়। আমার অনুরোধ, মাইলস্টোন স্কুল কর্তৃপক্ষ যেন একজন কাউকে দায়িত্ব দেন, যিনি শিশুদের আইডি কার্ডের কোড দিয়ে স্কুলের ডাটাবেজ থেকে তথ্য নিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।’