২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কারফিউ ভেঙে বাম প্রগতিশীল নারী সংগঠন, স্বতন্ত্র অধিকারকর্মী এবং নারী শিক্ষার্থীরা মিলে ‘হামার বেটাক মারলু ক্যানে’ শীর্ষক একটি সমাবেশের আয়োজন করেছিলেন রাজধানীর পল্টন মোড়ে। কারফিউ ভেঙে নারীদের সেই সমাবেশের স্মরণে তিন দফা দাবিতে সমাবেশ করেছে নারীরা।
সোমবার (২৮ জুলাই) বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ সমাবেশ করেন নারীরা।
তাদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে– দুই মাস ধরে আন্দোলনরত তথ্য আপাদের চাকরি রাজস্বভুক্ত করা; নিম্ন আদালতে কল্পনা চাকমা অপহরণ মামলা খারিজের আদেশ বাতিল করে পুনঃতদন্ত ও চিহ্নিত অপহরণকারী লে.ফেরদৌস গংদের বিচারের আওতায় আনা; পাহাড় ও সমতলে নারীর ওপর ধর্ষণ, নিপীড়ন ও মবসন্ত্রাসের বিচার করতে হবে এবং কারাগারে আটক করা সব বমের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া।
সমাবেশে বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরে বিভিন্ন শ্রেণির নারীরা বিভিন্নভাবে নিপীড়নের শিকার হয়েছে। গত বছরের ২৭ জুলাই কারফিউ ভেঙে নারীদের মিছিলের যে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছিল সেই উত্তাপকে আবারও অনুভব করার জন্য আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি। এই সরকার অভ্যুত্থানের সরকার। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমরা ভেবেছিলাম, সাধারণ মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ যারা জীবন দিয়েছে তারা বোধহয় একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে। কিন্তু আজকে এক বছর পরে এসে আমাদের বলতে হচ্ছে, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার যে কর্মকাণ্ডগুলো করেছে, সেই কর্মকাণ্ডগুলো আমরা আবারও দেখতে পাচ্ছি।
তিনি বলেন, এখন বাংলাদেশে ধর্মের নামে নারী নির্যাতন হচ্ছে। ধর্মের নামে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে। এগুলো আমরা বিগত সরকারের মধ্যেও দেখেছি, তার আগের সরকারের মধ্যেও দেখেছি। তাহলে আপনারা যে গণ-অভ্যুত্থানের সরকার আপনাদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই রাষ্ট্রেও একই ঘটনা ঘটছে।
সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট দীপাবলি বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে যে পরিমাণ ধর্ষণ নারী নির্যাতন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, আমরা ভেবেছিলাম তার অবসান হবে কিন্তু পরিতাপের বিষয় আমরা শুধু একটা সরকারকে সরিয়েছি আর কিছুই পরিবর্তন হয়নি।
এ সময় একাধিক পাহাড়ি আদিবাসী সংগঠন, বাম ছাত্র সংগঠনসহ একাধিক সংগঠনের নেতারা সমাবেশের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন।