আপনাদের তো দায় এড়ানোর সুযোগ নেই: আসামিদের উদ্দেশে বিচারক

উড়োজাহাজের অনলাইন টিকিট বুকিংয়ের প্ল্যাটফর্ম ‘ফ্লাইট এক্সপার্ট’-এর বিরুদ্ধে গ্রাহকের ৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার তিন জনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

রবিবার (৩ জুলাই) জামিন শুনানির সময় বিচারক আসামিদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের তো এখানে দাঁড় এড়ানোর সুযোগ নেই। যেহেতু আপনারা দীর্ঘ দিন চাকরি করছে, এ বিষয়তো জানার কথা। 

এদিন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুর রহমান এ মন্তব্য করেন। 

এদিন বিকালে আসামিদের আদালতে হাজির মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সাদ্দাম হোসেন কারাগারে রাখার আবেদন করেন। আসামিদের মধ্যে সাঈদ আহমেদ পক্ষে আইনজীবী মোফাজ্জল হোসেন ফারুক ও 
কে এম সাদাত হোসেন, সাকিব হোসেনের পক্ষে মো. রবিউল ইসলাম জামিন আবেদন করে। 

আসামি পক্ষের আইনজীবী ফারুক বলেন, এ মামলায় আমরা ভুক্তভোগী। মূল আসামিদের পলায়নের পর আমরা জিডি করেছি। আমাদের বেতন না দিয়ে চলে গেছে। এরপরও  আমাদের আসামি করা হয়েছে। 

সাদাত ও সাকিবের পক্ষে আইনজীবী রবিউল বলেন, চার কোটি টাকার অভিযোগতো কোম্পানির বিরুদ্ধে। আমার (আসামিদের) দোষটা কোথায়? তারাতো সেখানে চাকরি করে। কোম্পানির অতিরিক্ত কোনও টাকাইতো তারা নেননি। 

বাদীর পক্ষের আইনজীবী আবজাল হোসেন মৃধা বলেন, এ মামলার আসামি এজেন্সির হেড অব ফিন্যান্স সাকিব হোসেনের কাছেই কোম্পানির সব টাকা আসে এবং যায়। সেখান থেকে খরচ করা হয়েছে। চিফ কমার্শিয়াল অফিসার সাঈদ আহমেদ ও চিফ অপারেটিং অফিসার এ কে এম সাদাত হোসেন প্রতিষ্ঠানের অস্বাভাবিক আচরণের কথা জানতো। এই তিনজন ও পলাতক দুই আসামিকে ভুক্তভোগীরা টাকা দিয়েছে। ১ হাজারেরও বেশি মানুষের হজ্জ ও ওমরার ৫ থেকে ৬ হাজার কোটি টাকা সাবমিট করা। এরাই জানে এক নাম্বার ও দুই নাম্বার আসামি কোথায় আছে? এদের ছেড়ে দেওয়া হলে ভুক্তভোগীদের টাকা পেতে সমস্যা হবে। 

পরে বিচারক জিজ্ঞেস করেন, আপনারা কত বছর ধরে এখানে কর্মরত আছেন? একজন জবাব দিলেন, ৮ বছর ধরে। 

পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, বিভিন্ন ট্রাভেলস এজেন্সির কাছ থেকে কোটি কোটি আত্মসাৎ করেছে। এ আসামিরা সব জানতো। সুযোগের অপেক্ষায় এরা পলায়ন করতে পারেনি। এদের কাছে হাজার হাজার কোটি টাকা আছে। জামিন পেলে ভুক্তভোগীরা টাকা পাবে না। 

পরে আসামি পক্ষের আইনজীবী ফারুক বলেন, টাকা কার কাছে দেওয়া আছে, সেটা এজাহারে বলা আছে। আমিতো (আসামি) টাকা আত্মসাৎ করিনি। আমি যদি টাকা আত্মসাৎ না করি, তাহলে আমাকে কেন ভুক্তভোগী হতে হবে। 

পরে বিচারক বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। এটাতো একদিনে হয়নি। দীর্ঘ দিন প্রতারণার মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে। আপনাদের তো এখানে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। যেহেতু আপনারা দীর্ঘ দিন চাকরি করছেন, এ বিষয়তো জানার কথা। 

পরে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।