বকেয়া পরিশোধে জনকণ্ঠ কর্তৃপক্ষকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে জনকণ্ঠ কর্তৃপক্ষকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন পত্রিকাটির সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরারা। প্রতিষ্ঠাটির কাছে ৬ কোটি টাকারও বেশি বকেয়া বেতন-ভাতা পাবেন তারা। 

রবিবার (৩ আগস্ট) দুপুরে জনকণ্ঠ ভবনের সামনে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে কর্মবিরতি পালন শেষে এই ঘোষণা দেন পত্রিকার নতুন সম্পাদকীয় বোর্ডের সদস্য সাবরিনা বিনতে আহমদ।

তিনি বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে সাংবাদিক ও কর্মীদের রক্তচুষে প্রতিষ্ঠানটি এই বকেয়া তৈরি করেছে। এখনই বেতন পরিশোধ না হলে কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে।’ 

তিনি আরও জানান, মালিকপক্ষ জুলাই বিপ্লবের শহীদদের অবমাননা করে পত্রিকাটি কালো টেমপ্লেটে প্রকাশ করেছে এবং ফ্যাসিস্ট আচরণ করছে। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে প্রিন্ট সংস্করণে দুইদিন ছাপাখানা বন্ধ থাকবে।

সাবরিনা বলেন, পত্রিকাটি লাল রঙে ছাপানোর দায়ে বরখাস্ত হওয়া সাংবাদিকদের সম্মানজনকভাবে পুনর্বহাল করতে হবে। পাশাপাশি অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত তিন শতাধিক ব্যক্তির পাওনাও দ্রুত পরিশোধের দাবি জানান তিনি।

পত্রিকার প্ল্যানিং অ্যাডভাইজার ও সম্পাদকীয় বোর্ডের সদস্য জয়নাল আবেদীন শিশির বলেন, এখনও জনকণ্ঠ মালিকপক্ষ স্বৈরাচারী আচরণ করছে। হাসিনা স্টাইলে নোটিশ দিয়ে ২০ জন সাংবাদিককে ছাঁটাই করা হয়েছে, যা গণমাধ্যম নীতির পরিপন্থি। তিনি অভিযোগ করেন, জনকণ্ঠের কিছু তথ্য পরিচালিত হচ্ছে সাতটি বিদেশি নম্বরের মাধ্যমে, যেগুলোর সঙ্গে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা এরফানুল হক নাহিদ বলেন, নোটিশ ছাড়া কাউকে চাকরিচ্যুত করা যায় না। জনকণ্ঠ কর্তৃপক্ষকে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা এবং অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বরদাশত করা হবে না।

পত্রিকার প্রধান প্রতিবেদক কাওছার রহমান, বিশেষ প্রতিনিধি উত্তম চক্রবর্তী, ডেপুটি চিফ রিপোর্টার ইসরাফিল ফরাজীসহ বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক সাংবাদিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী এই কর্মবিরতিতে অংশ নেন এবং আল্টিমেটামের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান।

এর আগে শনিবার (২ আগস্ট) জনকণ্ঠ কর্তৃপক্ষ কয়েকজন সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করে, যার পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষুব্ধ কর্মীরা সম্পাদককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন এবং মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।