মৌচাকে গাড়িতে ২ জনের মরদেহ: নোয়াখালী থেকে রোগী নিতে আসেন তারা

রাজধানীর মৌচাকে ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বেজমেন্টের পার্কিংয়ে থাকা একটি প্রাইভেটকার থেকে দুই জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে রমনা থানা পুলিশ। তারা হলেন গাড়িচালক জাকির (৪৫) ও তার সহকারী মিজান (৪০)।

পুলিশ বলছে, রবিবার (১০ আগস্ট) ভোরে তারা নোয়াখালীর চাটখিল থেকে রোগী নিতে এই হাসপাতালে আসেন। এরপর থেকে আর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুরে গাড়ির ভেতর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

পুলিশ জানায়, হাসপাতালের বেজমেন্টের পার্কিংয়ে প্রায় ৩০ ঘণ্টা ধরে গাড়িটি ছিল। নিহত দুই জনও ওই গাড়ির ভেতরেই ছিল। ফলে প্রচণ্ড গরমে তাদের মরদেহ অনেকটা পচে গেছে। তবে কেন তাদের মৃত্যু হয়েছে, কোনও বিষক্রিয়া জাতীয় কিছু থেকে, নাকি হত্যা করা হয়েছে- এ বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম ফারুক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সোমবার (১১ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সংবাদে বেজমেন্টে থাকা একটি প্রাইভেটকারের ভেতর থেকে চালক জাকির ও মিজানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, সিরাজুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নোয়াখালীর চাটখিলের বাসিন্দা জুবায়ের নামে এক রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাকে নিতে নোয়াখালী থেকে রবিবার সকালে ভাড়ায় চালিত একটি প্রাইভেটকার হাসপাতালে আসে। ওই গাড়িতে চালক জাকির, তার সহকারী মিজান ও গাড়ির মালিক সৌরভও ঢাকায় আসেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে রমনা জোনের উপকমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সিরাজুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রোগী জুবায়েরকে নিতেই তারা ঢাকায় আসেন। রবিবার সকালে হাসপাতালের সামনে প্রাইভেটকার থেকে নামেন গাড়ির মালিক সৌরভ ও মিজান। পরে তারা হাসপাতালের রিসিপশনে যান। আর গাড়িটি নিয়ে চালক জাকির ভোর সকাল ৫টা ৩২ মিনিটে বেজমেন্টের পার্কিংয়ে যান। পরে চালকের সহকারী মিজান ৬টা ১০ মিনিটে বেজমেন্টে থাকা গাড়িতে গিয়ে বসেন। এরপর থেকে তাদের আর গাড়ি থেকে বের হওয়ার কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।

ডিসি মো. মাসুদ আলম আরও বলেন, গাড়ির মালিক সৌরভ জানিয়েছেন তিনি হাসপাতাল থেকে উত্তরায় একটি কাজে চলে যান। এদিকে তারা বেশি সকালে চলে আসায় রোগী জুবায়েরের সঙ্গে তাদের আর যোগাযোগ হয়নি। পরে সকাল ৯টার দিকে জুবায়ের গাড়ির মালিক সৌরভকে জানান, তার অপারেশন হওয়ায় আরও দুদিন হাসপাতালে থাকতে হবে। তাই তিনি চালক জাকিরকে ফোনে পাচ্ছিলেন না। বেজমেন্টে ইন্টারনেট দুর্বল থাকায় হয়তো ফোন যাচ্ছিল না বলে পুলিশকে জানিয়েছেন সৌরভ।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, হাসপাতালে ভর্তি রোগী জুবায়েরসহ তারা সবাই নোয়াখালীর চাটখিলের বাসিন্দা। তবে, কেন তারা মারা গিয়েছেন বা তাদের কেউ হত্যা করেছে কিনা, এ বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।