দেশের চারটি বিশেষায়িত ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা স্বতন্ত্র কমিশন গঠন ও সংস্কারের দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন। তারা জানান, ৩১ জুলাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ৯ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েও লিখিত সমাধান না পাওয়ায় এই কর্মসূচি বেছে নিয়েছেন তারা।
সোমবার (১১ আগস্ট) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সংস্কার আন্দোলন’-এর ব্যানারে ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, বরিশাল ও সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশন শুরু করেন। সংস্কারের দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনশন অব্যাহত থাকবে বলে জানান তারা।
অনশনরত শিক্ষার্থীরা জানান, গত ২০ মে থেকে চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনসহ অ্যাকাডেমিক শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন। দুই মাসেরও বেশি সময় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পর ২৭ জুলাই তারা ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান শুরু করেন। পরদিন ২৮ জুলাই পুলিশ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে লাঠিচার্জ করে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থীকে আহত করে। এরপর ৩১ জুলাই ৯ দিনের আলটিমেটাম দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু ১০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও কোনও লিখিত সমাধান দেওয়া হয়নি। তাই পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন তারা।
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থী সিফাত বলেন, সবাই বলছেন আমাদের দাবি যৌক্তিক। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাদের কোনও দাবি মেনে নেওয়া হয়নি। তাই আমাদের অনশনে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই।
আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, দেশের চারটি বিশেষায়িত ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ— ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, বরিশাল ও সিলেট দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক জটিলতায় ভুগছে। এর মধ্যে বরিশাল, ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের দ্বৈত কাঠামোতে পরিচালিত এবং সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের অধীনে পরিচালিত।
তারা জানান, ২০ মে থেকে বরিশাল, ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালাচ্ছেন এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (বিআইটি) আদলে একটি স্বতন্ত্র কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন। পরে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরাও এতে যুক্ত হন।