ভেঙে যাওয়া সংসারে ফিরতে সৎ ছেলেকে খুন করলেন বাবা

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে রাকিবুল সরদার (১৪) নামে এক কিশোরকে হত্যার অভিযোগে তার সৎ বাবা মো. আজহারুল সরদারকে (৩৬) গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। ভেঙে যাওয়া সংসারে ফিরে যাওয়ার মোহে বাধা হয়ে দাঁড়ানো সৎ ছেলেকে খুন করেন তিনি।

সোমবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর কাওরান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক (পরিচালক) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান

র‌্যাব জানায়, নিহত রাকিবুলের মা তফুরা খাতুন (৩৪) প্রথম স্বামী খায়রুল সরদারের মৃত্যুর পর দুই বছর আগে আজহারুলকে বিয়ে করেছিলেন। তবে বিয়ের পর নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রায় ৩-৪ মাস আগে তিনি আদালতের মাধ্যমে আজহারুলকে তালাক দেন।

তালাকের পর থেকেই তফুরাকে নিয়মিত হুমকি দিতে থাকেন আজহারুল। পুরোনো সংসারে ফিরে আসার জন্য চাপ সৃষ্টি করলেও তফুরা রাজি হননি। এ নিয়ে ক্ষোভ থেকেই তফুরার আগের ঘরের ছেলে রাকিবুল সরদারকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আজহারুল ।

গত ১৪ আগস্ট সকালে প্রতিদিনের মতো কাজে বের হয় রাকিবুল। এরপর সে আর বাসায় ফেরেনি। একদিন পর ছেলে নিখোঁজ হওয়ায় তফুরা খাতুন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং সাবেক স্বামী আজহারুলের কাছেও খোঁজ নেন। প্রথমে আজহারুল বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। এমনকি বলেন, রাকিবুল তার সঙ্গে সাতক্ষীরায় আছে এবং এ অজুহাতে বিকাশে কিছু টাকা হাতিয়ে নেন।

তবে ১৬ আগস্ট সকালে তফুরা ফোনে জানতে পারেন, রাকিবুলের মৃতদেহ আজহারুলের ভাড়া বাসায় রয়েছে। পরে ৯৯৯ নম্বরে কল করে খবর দিলে পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া পশ্চিম পাড়ার ওই বাসা থেকে রাকিবুলের মরদেহ উদ্ধার করে।

এই ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিকে গ্রেফতারের জন্য র‌্যাব-১০ এর কাছে অনুরোধ করলে র‌্যাব তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে। রবিবার (১৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে র‌্যাব-১০ এবং র‌্যাব-৬ এর যৌথ অভিযানে খুলনা মহানগরীর হরিণটানা থানার জিরো পয়েন্ট মোড় থেকে আজহারুলকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আজহারুল স্বীকার করেন, পুরোনো সংসারে ফিরতে না পারায় তিনি রাকিবুলকে বাধা মনে করেন। পরে ছেলেটিকে বাসায় ডেকে এনে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু রাকিবুল মায়ের পক্ষেই অবস্থান নেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে মারধর এবং পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন আজহারুল।