বাংলা অ্যাকাডেমির জীবনসদস্য অধ্যাপক আকবর আলী সিরাজি অ্যাকাডেমির লেখক কর্নারে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছে অ্যাকাডেমি কর্তৃপক্ষ। বাংলা অ্যাকোডিমর মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম লিখিতভাবে বিষয়টি জানতে চেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) এ বিষয়ে অধ্যাপক আকবর আলী সিরাজিকে একটি চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে অভিযোগের বিষয়ে কোনও বক্তব্য থাকলে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে অ্যাকাডেমি কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করেছেন মহাপরিচালক।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যাপক আকবর আলী সিরাজি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমি তালা দেইনি। জবাব চাওয়া হয়েছে, জবাব দেবো। তিনটা তালা ও একটি চাবি নিচে পড়ে ছিল। আমি বলেছি, এই চাবিটা আপনারা রাখেন। তালা-চাবির বিষয়টি তো সিকিউরিটি অফিসার দেখে।
অধ্যাপক আকবর আলী সিরাজিকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, জাতির মননের প্রতীক বাংলা অ্যাকাডেমির একজন সম্মানিত জীবনসদস্য আপনি। অ্যাকাডেমির ভাবমূর্তি রক্ষায় আপনার দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু আপনার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে অ্যাকাডেমি কর্তৃপক্ষ বার বার বিব্রত হচ্ছে। সর্বশেষ ২৮ আগস্ট বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৫টায় আপনি অ্যাকাডেমির ড. মুহম্মদ এনামুল হক ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত অ্যাকাডেমির ভাষা প্রশিক্ষণ উপবিভাগ এবং নির্মাণাধীন বাংলা অ্যাকাডেমি লেখক কর্নারের মূল ফটকে অযাচিতভাবে নিজস্ব তালা লাগিয়ে দেন।
আগেও, বিশেষ করে ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লবের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে আপনি দলবলসহ অ্যাকাডেমিতে এসে নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেছেন। অ্যাকাডেমির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অযাচিতভাবে হস্তক্ষেপ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করেছেন। আপনার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলা অ্যাকাডেমির স্বাভাবিক কাজে বিঘ্ন ঘটছে। আপনার এসব কর্মকাণ্ড অ্যাকাডেমির স্বার্থ ও আদর্শের পরিপন্থি।
অভিযোগের বিষয়ে অ্যাকাডেমির আকবর আলী সিরাজি বলেন, নারীরা আমার মা, আমার মেয়ে। আমি এটা কেনও করবো? এটা করলে আমি ভুল করবো, এটা ঠিক হবে না। একদিন আমি একজন নারীকে বলেছিলাম, আপা, সাড়ে ৪টায় আপনি চলে গেলে বাস ধরতে পারবো না, সিট পাবো না এ জন্য। সাড়ে ৪টার সময় সবাই চলে যায়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, এ বিষয়ে আপনার কোনও বক্তব্য থাকলে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে অ্যাকাডেমি কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হলো। বিষয়টি বাংলা অ্যাকাডেমির নির্বাহী পরিষদে উপস্থাপন করা হবে।