পিএসসি নন-ক্যাডার চাকরি পরীক্ষায় সাজেশনের নামে প্রতারণা: মূল হোতা গ্রেফতার

বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) নন-ক্যাডার চাকরির পরীক্ষায় সাজেশন দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মূল হোতা মতিউর রহমানকে (৩২) গ্রেফতার করেছে সিআইডি। মঙ্গলবার (২ আগস্ট) তাকে গ্রেফতার করা হয়।

বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির সাইবার ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত ডিআইজি জাহিদুল ইসলাম।

সিআইডি জানায়, প্রতারক চক্রটি চাকরিপ্রার্থীদের টার্গেট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, বিশেষ করে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিতো। ‘এটিইও পরীক্ষার জন্য সিক্রেট শিট-হুবহু ৮০-৯০ শতাংশ কমন’ কিংবা ‘শেষ মুহূর্তের সাজেশন শিট’ ইত্যাদি চটকদার শিরোনামে পোস্ট দিয়ে সাজেশন বিক্রির প্রলোভন দেখানো হতো।

এরপর যোগাযোগ হলে সাজেশন শিটের দাম নির্ধারণ করা হতো– পিডিএফ কপির জন্য ২০০ টাকা, কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠানোর ক্ষেত্রে ৩৯০ টাকা থেকে ৪৯০ টাকা পর্যন্ত। টাকা পাঠানোর জন্য দেওয়া হতো বিকাশ, নগদ ও রকেট নম্বর। টাকা নেওয়ার পর ভুয়া বা অকার্যকর কনটেন্ট পাঠানো হতো।

মতিউর রহমান জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার মন্ডলবাড়ি নোয়ারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জামালপুরের মেলান্দহ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। এ সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ও একটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।

ওই চক্রের কার্যক্রম নজরে আসার পর পিএসসির পক্ষ থেকে গত ১ সেপ্টেম্বর সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারে লিখিত অভিযোগ করা হয়। পরে শেরে বাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সিআইডি জানায়, মতিউর রহমানকে আদালতে উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অতিরিক্ত ডিআইজি জাহিদুল ইসলাম বলেন, এই ধরনের প্রতারণা শুধু চাকরিপ্রার্থীদের অর্থনৈতিক ক্ষতি করছে না, বরং পিএসসির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সুনামকেও ক্ষুণ্ণ করছে। আমরা চক্রটির অন্যান্য সদস্যদেরও শিগগির আইনের আওতায় আনবো।