‘নির্বাচন কমিশন সার্ভিস’ নামে আলাদা সার্ভিস চালুর লক্ষ্যে বিদ্যমান আইন দ্রুত সংশোধন চান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা। একইসঙ্গে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার মূল দায়িত্ব এসব কর্মকর্তাদের রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইলেকশন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিইসিএএ)।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ইলেকশন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ইলেকশন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক কমিটির সভায় পাঁচ দফা দাবি জানান কর্মকর্তারা। নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ও উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন।
বর্তমান নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অধীনে পাঁচ হাজারেও বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে ইসির। বদিউল আলম মজুমদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশে রয়েছে- একটি আইন প্রণয়নের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি পৃথক সার্ভিস সৃষ্টির বিধান করা। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন, ২০০৯-এ সংশোধনী আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করার প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব এবং অন্যান্য কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য ‘নির্বাচন কমিশন সার্ভিস’ নামে আলাদা একটি সার্ভিস থাকবে। এই সার্ভিস প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সচিব এবং অন্যান্য কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বিদ্যমান ইসি সচিবালয় আইন সংশোধন চেয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে খসড়া পাঠানো হয়েছে।
বিইসিএএ কর্মকর্তাদের পাঁচ দফা দাবিগুলো হলো
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশের আলোকে ‘নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ–২০২৫’ দ্রুত জারি করে ‘নির্বাচন কমিশন সার্ভিস’ গঠন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব প্রদান করা; পদসৃজন, আপগ্রেডেশন ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিকসহ প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রাম অনুমোদন দেওয়া; ‘জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন-২০২৩’ বাতিল করে জাতীয় পরিচয়পত্র কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনের আছে হস্তান্তর।
এছাড়া অ্যাসোসিয়েশনের যৌক্তিক প্রস্তাব বাস্তবায়নে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে নির্বাচন ভবনে মাননীয় কমিশনের উপস্থিতিতে জরুরি সাধারণ সভা আয়োজনের লক্ষ্যে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টায় জুম প্ল্যাটফর্মে সভা আহ্বান; এবং উপজেলা ইলেকশন অফিসার্স এসোসিয়েশনের দাবি ও কর্মসূচির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করা।
সংসদ নির্বাচনে জেলা প্রশাসকদের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়ে থাকে ইসি। আর তাদের সহায়ক হিসেবে কাজ করেন ইসি কর্মকর্তারা। তবে উপ-নির্বাচনগুলোতে নিজস্ব কর্মকর্তাদের দায়িত্বটি দেওয়া হয়। কিন্তু এখন থেকে তারা (ইসি কর্মকর্তারা) সাধারণ নির্বাচনের দায়িত্বটি নিতে চান।