আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে অপহরণ করে কোটি টাকা আদায়!

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে অপহরণ করে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে কোটি টাকা আদায়ের অভিযাগে একটি চক্রে দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শনিবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর হাইকোর্ট এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার হয়। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য জানান।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হ‌লো– মো. হাসানুজ্জামান (৩৫) ও মো. আলমগীর শিকারী (৪৬)।

চক্রটি ভুক্তভোগীদের সঙ্গে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সূত্র ধরে পরিচিত হ‌য়ে কৌশ‌লে অপহরণ করতো ব‌লে জা‌নি‌য়ে‌ছে সিআইডি।

সিআইডি জানায়, চক্রের সমস্যরা দীর্ঘদিন ধরে সিআইডি বা পুলিশের নাম ব্যবহার করে লোকজনকে অপহরণ করে চাঁদা আদায়, মারধর ও ভিডিও ধারণের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করছিল।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে বলেন, চক্রের সদস্যরা প্রথমে তাবলিগ জামাত বা অন্যান্য ধর্মীয় প্রোগ্রামের সূত্র ধরে লোকজনের সঙ্গে পরিচয় গড়ে তোলে এবং অভাবের কথা বলে টাকা নেওয়ার ফাঁদ পাতে।

জামাল (ছদ্মনাম) নামে এক ভুক্তভোগী কাকরাইলে তাবলিগ জামাতের মারকাজ মসজিদে প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের সুবাদে সামসুল হক খানের সঙ্গে পরিচিত হন। সামসুল প্রায়ই অভাবের কথা বলে জামালের কাছ থেকে টাকা নিতো।

গত ১৪ অক্টোবর জামাল খুলনায় ব্যবসার কাজে থাকাকালীন সময়ে কল দিয়ে অসুস্থতার কথা বলে টাকা চায় সামসুল। জামাল তাকে যাত্রাবাড়ী এলাকায় অপেক্ষা করতে বলেন এবং খুলনা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার সময় টাকা দেবেন বলে জানান। এরপর রাত সাড়ে ১০টায় যাত্রাবাড়ী কাঁচা বাজার গোল চত্বরে সামসুলের সঙ্গে দেখা করে রেস্টুরেন্টে নাস্তা করে তাকে ২ হাজার টাকা দেন।

জসীম উদ্দিন খান বলেন, রাত ১১টায় রেস্টুরেন্ট থেকে বের হলে সামসুলসহ অজ্ঞাত সাত জন জামালকে ঘিরে ফেলে। তারা সিআইডি পুলিশ পরিচয় দিয়ে জাল গ্রেফতারি পরোয়ানা দেখিয়ে জামালকে জোর করে গাড়িতে তোলে এবং পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি দেয়। এ সময় জামালের সঙ্গে তার ব্যবসায়িক পার্টনার রেজাউল করিমও ছিলেন।

অপহরণকারীরা তাদের ঢাকার হাসনাবাদের একটি ছয়তলা বাড়ির ছষ্ঠ তলায় নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে তাদের কাছে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে রাজি না হলে তারা জামালকে মারধর শুরু করে। এতে তিনি ভয় পেয়ে সঙ্গে থাকা নগদ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ট্রান্সফার করে মোট ১ কোটি ১০ লাখ টাকা দেন। অপহরণকারীরা জামালের ব্যবসায়িক বন্ধু রেজাউল করিমের কাছ থেকেও ২৭ হাজার টাকা নেয়।

সিআইডির বি‌শেষ সুপার আরও বলেন, অপহরণকারীরা জামালকে বিবস্ত্র করে একটি ২৫-৩০ বছরের নারীর সঙ্গে বসিয়ে ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করে এবং ১৮টি নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে সই নেয়। ঘটনা ১৪ অক্টোবর রাত ১১টা থেকে ১৫ অক্টোবর বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলে।

তিনি বলেন, ঘটনাটির কথা পুলিশকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীদের ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এক সপ্তাহ পরেই অপহরণকারীরা ধারণ করা ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ না করার বিনিময়ে ২০ লাখ টাকা দাবি করে এবং না দিলে মিথ্যা মামলা দায়ের ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। পরে গত ৬ নভেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন জামাল। সেই মামলার তদন্তের এক পর্যায়ে ওই দুই জনকে গ্রেফতার করে সিআইডি।

তিনি জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তা‌দের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেফতারে কাজ করছে সিআইডি।