চিফ প্রসিকিউটরকে জড়িয়ে সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগ নারী আইনজীবীর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে জড়িয়ে সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগ এনেছেন চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীর প্রাক্তন স্ত্রী আইনজীবী রিজওয়ানা ইউসুফ। সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ তিনি এই অভিযোগ তুলে ধরেন।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। শুনানিকালে প্রসিকিউটর এ মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ট্রাইব্যুনালের কাছে আট সপ্তাহ সময় চান। পরে আগামী ১৬ মার্চ মামলার দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
 
এরপর শুনানি করেন অভিযোগকারী আইনজীবী রিজওয়ানা ইউসুফ। তিনি শুনানির শুরুতে ফজলে করিমের স্বাস্থ্য সম্পর্কে ট্রাইব্যুনালকে জানান এবং কারা হাসপাতালে চিকিৎসা চেয়েছেন। একপর্যায়ে নিরাপত্তাজনিত কারণে কারা হাসপাতালের বাইরে ফজলে করিমের চিকিৎসা দেওয়ার আবেদন প্রত্যাহার করে নেন তিনি।

শুনানিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হেনস্তাসহ বিভিন্ন হুমকির কিছু বিষয় ট্রাইব্যুনালের নজরে আনেন আইনজীবী রিজওয়ানা। তিনি বলেন, “চট্টগ্রামে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে ট্রাইব্যুনালকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছেন রেজাউল করিম নামে এক এনসিপি নেতা। নিজেদের ইচ্ছেমতো রায় না হলে এমন হুমকি দেন তিনি। তাই আমার চাওয়া হলো, আমার মক্কেলকে কারাগারে যেন নিরাপত্তা দেওয়া হয়। মেডিকেল বোর্ডের স্বাস্থ্য প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি আগের চেয়ে কিছুটা উন্নতির পথে।”

আইনজীবী রিজওয়ানা আরও বলেন, “আমার সঙ্গে চিফ প্রসিকিউটরের সম্পর্কের কারণে তিনি আমাকে ফেভার করছেন- এমন কথা ছড়ানো হচ্ছে। অথচ, ফজলে করিম আমার প্রাক্তন স্বামী। এছাড়া চিফ প্রসিকিউটরকে জড়িয়ে আমার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন কুৎসা রটানো হচ্ছে। এতে সামাজিকভাবে আমরা হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছি।”

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এই আইনজীবী বলেন, “চট্টগ্রামে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিনের মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সদ্য পদত্যাগ করা অ্যাটর্নি জেনারেল ও চিফ প্রসিকিউটরও ছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে আমিও ছিলাম। কিন্তু, চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ও আমার একটি কাটিং ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ফজলে করিমের জামিনের বিষয়ে দু’জনের মধ্যে আপস হয়েছে। তাকে যদি এ মামলায় জামিন দেওয়া হয় তাহলে ট্রাইব্যুনাল গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।”

তখন এ বিষয়ে প্রসিকিউশনের বক্তব্য শুনতে চান ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে এমন কোনও ব্যাপারে প্রসিকিউশন অবগত কি না তা জানতে চাওয়া হয়। এ সময় প্রসিকিউটর তামিম বলেন, “আমরা অবগত রয়েছি। শুধু আসামিপক্ষকেই নয়, প্রসিকিউশন ও ট্রাইব্যুনালের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনা করা হয়। এতে আমরাও মাঝে মধ্যে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ি। তাই আদালত চাইলে আমলে (অভিযোগ) নিতে পারেন।”

প্রতিক্রিয়ায় ট্রাইব্যুনাল বলেন, “আমরা ব্যাখ্যা চাইবো। বিচার ব্যবস্থাকে যদি এভাবে বাধাগ্রস্ত করা হয়, তাহলে রাষ্ট্র টিকবে কীভাবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা থাকলো কোথায়। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদের নাম-পরিচয়সহ একটি আবেদন জমা দিন। আমরা ব্যবস্থা নেবো।”