চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৩০ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে তদন্ত কর্মকর্তার জেরার মধ্য দিয়ে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের ধাপ শেষ করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
ট্রাইব্যুনালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিনকে জেরা করেন বেরোবির তৎকালীন প্রক্টর শরিফুল ইসলামের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো, পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সুজাদ মিয়া, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতাদের পক্ষে আইনজীবী মামুনুর রশীদ, আইনজীবী ইশরাত জাহান ও শহিদুল ইসলাম। এসময় প্রসিকিউশন পক্ষে শুনানিতে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামিম।
প্রসিকিউশন বা রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে নিয়মানুযায়ী আসামিপক্ষের সাফাই সাক্ষ্য নেওয়া হয়। কিন্তু সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণের কোনও আবেদন করেনি আসামিপক্ষ।
পরে এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের তারিখ নির্ধারণের জন্য বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে সকালে কারাগার থেকে গ্রেফতার ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। তারা হলেন— এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ।
এ মামলায় ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ২৪ জন এখনও পলাতক রয়েছেন। তাদের হয়ে আইনি লড়াই করছেন সরকারি খরচে নিয়োগ পাওয়া চার আইনজীবী।
এ মামলায় ২০২৫ সালের ২৪ জুন চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত সংস্থা। এরপর ৩০ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়। পলাতক আসামিদের পক্ষে ২২ জুলাই স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী হিসেবে চারজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল-২। ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।