মানবপাচরের অভিযোগে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৪। গত বৃহস্পতিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানাধীন সাতমাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। আর শনিবার (১৭ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানায় র্যাব।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মোস্তফা (৪৬) ও মো. মহসিন মিয়া (৪২)।
র্যাব-৪ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া অফিসার) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এন. রায় নিয়তি সই করা বিজ্ঞপ্তি বলা হয়, আব্দুল খালেক (২২) নামের একজনকে উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে মালয়েশিয়ায় পাঠান গ্রেফতারকৃতরা। সেখানে যাওয়ার পর শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরেন খালেক। এরপর তিনি কাফরুল থানায় মানবপাচার আইনে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে করে আসামিদের শনাক্তের পর গ্রেফতার করা হয়।
কে এন রায় নিয়তি বলেন, ভুক্তভোগী খালেক গ্রেফতারকৃতদের পূর্ব পরিচিত। গ্রেফতারকৃতদের মাধ্যমে এজেন্সির অন্যদের সঙ্গে পরিচিত হন তিনি। এরই প্রেক্ষিতে মোস্তফা ভুক্তভোগী খালেককে ১৫ লাখ টাকা চুক্তির বিনিময়ে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তাব দেন। পরে ২০২১ সালে মালয়েশিয়া হয়ে আমেরিকা যাওয়ার জন্য এজেন্সিকে গ্রেফতারকৃতদের উপস্থিতিতে নগদ পাঁচ লাখ টাকা দেন। কিছুদিন পরে গ্রেফতারকৃতরা ভুক্তভোগীকে জানান, ভিসা রেডি হয়েছে, চুক্তির বাকি ১০ লাখ টাকা চান। পরে ভুক্তভোগী টাকা দেন। এরপর গ্রেফতারকৃতরা ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে ভুক্তভোগীকে ওই এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় পাঠান। সেখানে গ্রেফতারকৃতদের পরিচিত বাপ্পী নামে একজন খালেককে তার বাসায় নিয়ে যান। কিন্তু, তাকে আমেরিকায় না পাঠিয়ে মালয়েশিয়াতে একটি সিমেন্ট কারখানায় আটক রেখে জোর করে কাজ করতে বাধ্য করেন এবং শারীরিক নির্যাতন করেন।
নির্যাতনের বিভিন্ন ফুটেজ ভুক্তভোগীর বাড়িতে পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে চক্রটি। পরে ভুক্তভোগী খালেকের স্বজনরা মুক্তিপণ বাবদ তিন লাখ টাকা দেয়। একপর্যায়ে খালেক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে কৌশলে মালয়েশিয়াতে অবস্থানরত ফকির নামের আরেক বাংলাদেশি দালালের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন। কিন্তু, ওই দালাল তাকে দেশে ফেরত না পাঠিয়ে মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্রয়-বিক্রয় চক্রের কাছে আবারও বিক্রি করে দেন।
ওই চক্রটি ভুক্তভোগীর অঙ্গ বিক্রির জন্য স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার পুলিশের হাতে আটক হন খালেক। পরে অবৈধ অভিবাসীর জেরে পুলিশ তাকে চার মাসের জেল দেয়। জেল খেটে ২০২৫ সালে ভুক্তভোগী দেশে ফিরে আসেন এবং আদালতের নির্দেশে কাফরুল থানায় মামলা করেন।