নির্বাচন কমিশন বিএনপি ও জামায়াতের দিকে ঝুঁকে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) মুখ্য সংগঠক হাসিব আল ইসলাম।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংগঠনটির জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ও ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার প্রতিবাদে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
সংবাদ সম্মেলনে হাসিব আল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আশঙ্কা করছি, নির্বাচন কমিশন বড় দুটি রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াতের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে। তারেক রহমান দেশে ফেরার পর আমলারাও বিএনপির দিকে ঝুঁকছেন।’
যাদের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ঋণখেলাপির সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাদের মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা এখনো দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে আছেন, তারা যদি এমপি কিংবা মন্ত্রী হন, তাহলে তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করবে। সংবিধান, প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ গোপন নথিপত্র সরকারের হাতে থাকে। কেউ যদি বাংলাদেশের নাগরিক না হন বা রাষ্ট্রের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য না রাখেন, তাহলে তিনি এসব তথ্য অন্য রাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করবেন না—এর নিশ্চয়তা কোথায়?’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিএনপি ছাত্রদলকে পাঠিয়ে নির্বাচন কমিশনের সামনে চাপ সৃষ্টি করছে। আর সেই চাপের মুখে নির্বাচন কমিশন দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ঋণখেলাপি থাকা সত্ত্বেও প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে।’
নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে হাসিব আল ইসলাম বলেন, ‘আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আপনারা যদি এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসেন এবং জনতার সিদ্ধান্ত, আইনের সমতা ও গণপ্রতিনিধিত্ব সংক্রান্ত আইন মেনে না চলেন, তাহলে আমরা বাংলাদেশের সকল জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি নিতে বাধ্য হব। আমরা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিচ্ছি। এই সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে আপনাদের নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে। অন্যথায় পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশা বলেন, ‘২০২৪ সালের হাজার হাজার শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে, তাদের অন্যতম দায়িত্ব ছিল বাংলাদেশের জনগণকে ইতিহাসের সবচেয়ে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন উপহার দেওয়া।’
তিনি বলেন, ‘ঋণখেলাপি শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটের প্রতীক। সেই লুটেরাদের প্রতিনিধিত্বের বৈধতা দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশকে লুটেরাদের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’
সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।