মা-মেয়ে খুন: গৃহশিক্ষিকা মীমের স্বামী ৩ দিনের রিমান্ডে

ঢাকার কেরানীগঞ্জে মা-মেয়েকে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া হুমায়ুন কবীরকে তিনদিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আহমেদ এই আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এএসআই সুমাইয়া আক্তার এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

নিখোঁজের ২১ দিন পর গত ১৪ জানুয়ারি কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকার একটি বাসা থেকে রোকেয়া রহমান (৩২) ও তার মেয়ে জোবাইদা রহমান ফাতেমার (১৪) অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর দাবি, ঋণের টাকার জামিনদার হওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের খুন করা হয়। যে বাসা থেকে দু’জনের লাশ উদ্ধার করা হয় সেটি ছিল ফাতেমার গৃহশিক্ষক মীমের। স্বামীর সঙ্গে সেখানে থাকতেন এই নারী।

গত ২৫ ডিসেম্বর বিকাল ৫টার দিকে ফাতেমা মীমের বাসায় পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হন। ওই দিন সন্ধ্যায় নিখোঁজ হন রোকেয়াও। স্ত্রী ও মেয়ের খোঁজ না পেয়ে প্রথমে কেরানীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শাহিন। এরপরও তাদের সন্ধান না পেয়ে গত ৬ জানুয়ারি তিনি মামলা করেন।

গত ১৪ জানুয়ারি ফাতেমার শিক্ষিকা মীম ও তার বোন নুরজাহানকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পরদিন এই দুই বোনকে আদালতে হাজির করা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার কথা জানান। তবে, নুরজাহানের বয়স ১৮ এর কম হওয়ায় তার জবানবন্দি নেননি ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগ। মীমের জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

এদিকে, গত ১৭ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কেরানীগঞ্জের মুক্তিরবাগ এলাকা থেকে মীমের স্বামী হুমায়ুনকে গ্রেফতার  করে পুলিশ। সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করে তাকে আদালতে হাজির করেন তদন্ত কর্মকর্তা রনি চৌধুরী। তবে, সেদিন মামলার মূল নথি না থাকায় রিমান্ড শুনানি হয়নি। শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।