প্রবাসী নারীকে বিয়ের ফাঁদে ফেলে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

নিজেকে কানাডা প্রবাসী ও বিপত্নীক পরিচয় দিয়ে আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশি এক নারীর সঙ্গে পরিচিত হয় মো. সালাউদ্দিন (২৯)। মোবাইল ফোনে বিয়ে সম্পন্ন হয় তাদের। পরে ভিডিওকলে কথা বলার সময় আপত্তিকর ভিডিও সংরক্ষণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হু‌মকি দি‌য়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় সে। এভা‌বে প্রায় অর্ধশতাধিক নারীর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়া‌রি) চট্টগ্রামের লোহাগাড়া এলাকা থেকে সালাউদ্দিনকে গ্রেফতার করে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট টিম।

বুধবার (২১ জানুয়া‌রি) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় ব‌লেন, মঙ্গলবার লোহাগাড়া থেকে সালাউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফোন ও সিম আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়।

এর আগে ভুক্ত‌ভোগী নারীর ভাই বাদী হয়ে মিরপুর মডেল (ডিএমপি) থানায় ১১ জানুয়া‌রি পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা ক‌রেন। 

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, সালাউদ্দিন ফেসবুক ম্যারেজ মিডিয়া পেজ ‘BCCB Matrimonial: Heavenly Match’ এর মাধ্যমে একজন আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশি নারীর সঙ্গে পরিচিত হয়। সে নিজেকে নাদিম আহমেদ সুমন নামে কানাডা প্রবাসী ও বিপত্নীক হিসেবে পরিচয় দেয়। ভিডিও কলে তার মা ও বোন পরিচয়ে আরও দুই জনকে পরিচয় করিয়ে দেয়। প‌রে মোবাইল ফোনে ভুক্তভোগীর সঙ্গে বিয়ে সম্পন্ন হয়। পরে আমেরিকায় যাওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ধারাবাহিকভাবে আর্থিক সহায়তা নিতে থাকে। এক পর্যায়ে ভিডিও কলে কৌশলে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। ব্ল্যাকমেইল ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে সে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্ট এবং বিকাশে আনুমানিক ১ লাখ ২৫ হাজার মার্কিন ডলার (যার বর্তমান বাংলাদেশি মূল্য প্রায় ১ কোটি ৫৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা) আত্মসাৎ করে।

বি‌শেষ পু‌লিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান ব‌লেন, মামলা দা‌য়েরর পর তার তদন্ত শুরু করে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার। প‌রে অবস্থান শনাক্ত করে সিআডির একটি বিশেষ দল অভিযান চা‌লি‌য়ে অ‌ভিযুক্ত‌কে গ্রেফতার করে।

সিআইডি তদন্তে আরও জান‌তে পে‌রে‌ছে, সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে আগেও একই ধরনের প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ৮০ থেকে ৮৫ জনের সঙ্গে একইরকমভাবে প্রতারণা করার কথা স্বীকার করেছে।

সিআইডি জানায়, এর আগে অ‌ভিযুক্তের বিরু‌দ্ধে ২০১২ সা‌লে একই ধর‌ণের মামলায় চার্জশিট দি‌য়ে‌ছিল মোহাম্মদপুর থানা-পু‌লিশ। ওই মামলায় জামিনে মুক্ত হয়ে একই পদ্ধতিতে নারীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে অপরাধ অব্যাহত রাখে ব‌লে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে।