মুগদায় শিশু অপহরণ: ৩০ ঘণ্টা পর উদ্ধার কর‌লো র‌্যাব, গ্রেফতার পাঁচ

রাজধানীর মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে তিন বছরের এক শিশুকে অপহরণের ৩০ ঘণ্টা পর উদ্ধার ক‌রে‌ছে র‌্যাব। সেই স‌ঙ্গে অপহর‌ণে জড়িত অভিযোগে পাঁচ জন‌কে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়া‌রি) সন্ধ্যায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থেকে শিশু‌টি‌কে উদ্ধার করে র‌্যাব। পরে শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

‌গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলে– অপহরণ চক্রের হোতা ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক চান মিয়া (৩৫), তার বাবা নূর মোহাম্মদ (৬৩), মা চান মালা (৫৫), ভাই জাকির হোসেন (৩৩) এবং জাকিরের স্ত্রী কুলসুম বেগম (২৪)। গ্রেফতার চান মিয়া, তার বাবা ও ভাই ঢাকায় থাকে। তারা ব্যাটারিচালিত রিকশা চালায় বলে দাবি করে। চান মিয়ার মা, ভাইয়ের স্ত্রী গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে গ্রামে থাকে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়া‌রি) রাজধানীর কাওরান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এমজেডএম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, গত বুধবার বেলা ১১টার দিকে সুমাইয়া আক্তার তার ছেলেকে চিকিৎসক দেখানোর জন্য রাজধানীর মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে বেলা ১টার দিকে মালিবাগের মৌচাক মার্কেটে যাওয়ার জন্য হাসপাতালের সামনে থেকে একটি রিকশা ভাড়া করেন। ছেলে পানি পান করতে চাইলে সুমাইয়া কাছের একটি দোকান থেকে পানি কিনছিলেন। ছেলে রিকশার মধ্যে খেলছিল। তিনি ছেলেকে নামাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সে নামেনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ওই সময় রিকশাচালক বলেন, ‘বাচ্চাটা নামতে চাচ্ছে না, থাক। আপনি বিলটা (পানির দাম) দিয়ে আসেন।’ পানির দাম দিতে দিতে পেছনে ফিরে তাকিয়ে দেখেন, শিশুটাকে নিয়ে রিকশাচালক চলে গেছে। তখন ওই নারী রিকশার পেছনে পেছনে ছোটেন। কিন্তু রিকশার নাগাল পাননি। এ সময় তিনি ছেলের জন্য কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে সুমাইয়া মুগদা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরদিন তিনি মুগদা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন এবং ছেলেকে উদ্ধারে র‍্যাবের সহযোগিতা চান।

ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর র‍্যাব অপহৃত শিশুকে উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় র‍্যাব-৩ এর একটি দল ও র‍্যাব সদর দফতরের গোয়েন্দা শাখা যৌথ অভিযান চালিয়ে মগবাজার ওয়্যারলেস গেটের গ্র্যান্ড প্লাজার কাছ থেকে অটোরিকশাসহ চান মিয়াকে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে চান মিয়া শিশুটিকে অপহরণের কথা স্বীকার করেন।

চান মিয়ার তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্প‌তিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে র‍্যাব-১৩ এর একটি দল গাইবান্ধার পলাশবাড়ী বাসস্ট্যান্ড থেকে বাকিদের গ্রেফতার করে। এ সময় নূর মোহাম্মদের কোল থে‌কে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে চান মিয়া র‍্যাবক জানায়, তার বাবা নূর মোহাম্মদ ও আজাদ নামে এক আত্মীয়কে দিয়ে শিশুটিকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। চান মিয়ার বিরুদ্ধে গাইবান্ধায় হত্যা মামলা রয়েছে। এছাড়া ঢাকার মুগদা এলাকায় মাদক কারবারে যুক্ত থাকায় আদালতে তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ।

র‍্যব জানায়, ১২ বছর ধরে সুমাইয়া সপরিবার সুইজারল্যান্ডে ছিলেন। সম্প্রতি তিন সন্তানকে নিয়ে তিনি দেশে ফিরে এসেছেন এবং ঢাকার সবুজবাগ থানার দক্ষিণগাঁওয়ে থাকছেন।

মুগদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমদাদুল ইসলাম (তৈয়ব) বলেন, অপহরণে জড়িত থাকার অভিযোগে চান মিয়ার ভাই জাকিরকে গ্রেফতার করেছে ডিবি। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ও‌সি ইমদাদুল বলেন, অপহরণের ঘটনাটি পরিকল্পিত। অপহৃত শিশুটি প্রথমে গোবিন্দগঞ্জে অপহরণকারীদের বাড়িতে রেখেছিলেন। পরে শিশুটিকে সেখান থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সময় চক্রের সদস্যরা ধরা পড়েন। শিশুটিকে তারা হয়তো বিক্রির পাঁয়তারা করছিল। চান মিয়া হত্যা মামলায় আসামি হওয়ার পর ঢাকায় পালিয়ে এসে ব্যাটারিচালিত রিকশা চালাতো।