জামায়াত আমিরের বক্তব্যের প্রতিবাদে ‘ঝাড়ু মিছিল’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের দেওয়া একটি পোস্টের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ‘ঝাড়ু মিছিল’ করেছেন শিক্ষার্থীরা। রবিবার (১ জানুয়ারি) বেলা ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নারী নেত্রীদের ঝাড়ু হাতে মিছিলে অংশ নিতে দেখা যায়। সেখানে তারা সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।

এদিকে একই দিনে রাজধানীর মিরপুরে কাফরুলের বাইশটেকি এলাকায় জামায়াতের আমিরের নির্বাচনি প্রচারণার আগ মুহূর্তে একদল কর্মজীবী নারী ঝাড়ু মিছিল বের করে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সহিংসতা এড়াতে ভিক্ষোভকারী নারী ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মাঝখানে বেরিকেডট দিয়ে রাখেন। এছাড়া রবিবার দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শান্ত চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা।  সমাবেশে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা কর্মজীবী নারীদের নিয়ে করা মন্তব্যকে ‘আপত্তিকর’ ও ‘নারীর মর্যাদাহানিকর’ বলে উল্লেখ করেন।

ঢাবির আন্দোলনকারীরা জানান, নারীর শ্রমের সম্মান নিশ্চিত করতে হবে এবং ‘বেশ্যাকরণ প্রথা বিলুপ্তি’ করতে হবে।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, কর্মজীবী নারীদের অবমাননাকর বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মিরপুরের ঝাড়ু মিছিল (ছবি: নাসিরুল ইসলাম)

সমাবেশে সীমা আক্তার বলেন, বাংলাদেশে এখন নারীদের অধিকার নিয়ে কথা বললেই অনলাইনে বুলিং করা হয়। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ফেক ও বট আইডির মাধ্যমে নারীদের সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে আক্রমণ চালাচ্ছে।

আন্দোলনকারীদের একজন বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি সংকট ও সংগ্রামে নারীরা ঘরে-বাইরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তারপরও নারীদের উদ্দেশ করে এমন বক্তব্য নারীবিদ্বেষী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।

তিনি বলেন, সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি মুক্তা বারই বলেন, জামায়াত আমিরের বক্তব্যকে আইডি হ্যাক বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। জনগণের সামনে এর প্রমাণ দিতে হবে।

শিক্ষার্থী সুস্মিতা সরকার বলেন, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ধারাবাহিকভাবে এমন বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, যেটা ক্ষমার যোগ্য না।’ তিনি আগামী নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে এর জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশ থেকে জামায়াত আমিরকে প্রকাশ্য ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়।

জবিতে প্রতবাদ সমাবেশ

এদিকে সমাবেশে জবির নারী হল সংসদের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ফারজানা আক্তার টুম্পা বলেন, দায়িত্বশীল অবস্থানে থেকে জামায়াতে ইসলামীর আমির নারীদের নিয়ে যে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, তার তীব্র নিন্দা জানাই। কর্মজীবী নারীদের পতিতাবৃত্তির সঙ্গে তুলনা করা শুধু নারীদের অপমানই নয়, এটি তাদের মানবিক মর্যাদাকেও ক্ষুণ্ন করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক খাদিজাতুল কুবরা বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমিরের মতো একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছ থেকে এমন মন্তব্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। কর্মজীবী নারীদের পতিতাবৃত্তির সঙ্গে তুলনা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক থেকে শুরু করে লাখো গার্মেন্টসকর্মী নারী দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তারা কি দেহব্যবসা করতে ঘর থেকে বের হন? এমন মানসিকতা নারীর প্রতি চরম অবমাননার শামিল।

খাদিজাতুল কুবরা অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল একদিকে নারীদের নিজেদের প্রচারণায় ব্যবহার করে, অন্যদিকে তাদের অবমূল্যায়ন করে। তিনি এ ধরনের দ্বিচারিতা বন্ধের আহ্বান জানান এবং বলেন, দেশের নারী সমাজ আগামী ১২ তারিখ ব্যালটের মাধ্যমে এর জবাব দেবে।

প্রতিবাদ সমাবেশে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের একাধিক নারী সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম এক্সে ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের। ওই অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের অবমাননা করে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। জামায়াত থেকে দাবি করা হচ্ছে, অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকালে প্রকাশিত ওই পোস্টে লেখা ছিল, “আমরা বিশ্বাস করি, আধুনিকতার নামে যখন নারীদের ঘরের বাইরে ঠেলে দেওয়া হয়, তখন তারা শোষণ, নৈতিক অবক্ষয় ও নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়ে। এটা আসলে পতিতাবৃত্তিরই আরেক রূপ।”