মাছ-মাংস নয়, ক্ষোভে-প্রতিবাদে মানুষ ডিম ছুড়ে মারে কেন

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
২৪ মে ২০২৬, ১৫:০৪আপডেট : ২৪ মে ২০২৬, ১৫:০৪

মঞ্চে বক্তৃতা দিচ্ছেন কোনও রাজনীতিক। হঠাৎ ভিড়ের ভেতর থেকে ছুটে এলো একটি ডিম। মুহূর্তেই তা ভেঙে পড়লো তাঁর গায়ে। কয়েক সেকেন্ডের এই ঘটনাই অনেক সময় হয়ে ওঠে বড় খবর। বিশ্বজুড়ে এমন ঘটনা নতুন নয়। রাজা-মন্ত্রী থেকে বিতর্কিত রাজনীতিক— অনেকেই ক্ষুব্ধ মানুষের ছোড়া ডিমের মুখে পড়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে মানুষ ডিমই কেন বেছে নেয়?

বিশ্লেষকদের মতে, ডিম শুধু খাবার নয়, বহু সমাজে এটি অপমান ও প্রত্যাখ্যানের প্রতীক। এটি বড় ধরনের শারীরিক ক্ষতি করে না, কিন্তু জনসমক্ষে কাউকে বিব্রত করতে পারে প্রবলভাবে। সস্তা, সহজলভ্য এবং তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ডিম ধীরে ধীরে রাজনৈতিক প্রতিবাদের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। এই ধরনের প্রতিবাদ আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ‘এগিং’ নামে।

ইতিহাস বলছে, ইউরোপে বহু আগে থেকেই জনসমক্ষে অপছন্দের ব্যক্তি বা খারাপ অভিনয়ের প্রতিবাদে পচা ফল ও ডিম ছোড়ার রীতি ছিল। পরে তা রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে ওঠে।

সময়ের সঙ্গে অনেক আলোচিত ঘটনাও ঘটেছে। ১৯১০ সালে ব্রিটেনে উইনস্টন চার্চিলের দিকে ডিম ছোড়া হয়। ২০০১ সালে নির্বাচনি প্রচারে ব্রিটিশ উপ-প্রধানমন্ত্রী জন প্রেসকটের দিকে ডিম ছোড়া হলে তিনি পাল্টা ঘুষি মেরে আলোচনায় আসেন। ২০১৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিংয়ের মাথায় ডিম ভেঙে দেওয়া কিশোর উইল কনোলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি পান ‘এগ বয়’ নামে। এমনকি ২০২২ সালে ইংল্যান্ডে রাজা তৃতীয় চার্লসের দিকেও ডিম ছোড়া হয়েছিল।

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, ডিম ছোড়ার উদ্দেশ্য মূলত শারীরিক আঘাত নয়; বরং প্রতীকী বার্তা দেওয়া—‘আমরা তোমাকে প্রত্যাখ্যান করছি’ বা ‘তোমার কাজ গ্রহণযোগ্য নয়’।

মাছ বা মাংসের বদলে ডিম জনপ্রিয় হওয়ার পেছনেও আছে বাস্তব কারণ। ডিম সহজে বহন করা যায়, শরীরে লাগলে সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে নোংরা পরিস্থিতি তৈরি করে এবং অপমানের বার্তাটাও দ্রুত পৌঁছে দেয়। মাছ বা মাংস তুলনায় ভারী, ব্যয়বহুল এবং ব্যবহারেও ঝামেলাপূর্ণ।

শাস্তি কী হতে পারে

প্রতীকী ভাষা হিসেবে পরিচিতি পেলেও অনেক দেশে ডিম নিক্ষেপ অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। কারণ, এটি জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে এবং সহিংসতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। কারও গায়ে ডিম ছুঁড়ে মারা আইনের চোখে আঘাত হিসেবে বিবেচিত হয়। জনসমক্ষে করলে এটি জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের মতো আইনে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। রাজনৈতিক বা আদর্শিক ঘৃণা থেকে যদি কারও ওপর আক্রমণ হিসেবে ডিম নিক্ষেপ করা হয়, তাহলে অনেক দেশে এর জন্য শাস্তির বিধান আছে।

যুক্তরাষ্ট্রে কেউ অন্যকে লক্ষ্য করে ডিম ছুঁড়ে মারলে তা সরাসরি আঘাত হিসেবে ধরা হয়। এ ধরনের ঘটনা শুধু অসদারচরণমূলক মনে হলে এবং গুরুতর আঘাত না হলে শাস্তি হতে পারে সর্বোচ্চ ১ বছর পর্যন্ত জেল বা ৫০০ থেকে ১০০০ ডলার জরিমানা ও প্রোবেশন বা কমিউনিটি সার্ভিস। গাড়িতে ডিম নিক্ষেপে শাস্তি হতে পারে ১-৫ হাজার ডলার জরিমানা এবং সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত জেল।

আর বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ধারা ৩২৩, ৫০৬ অনুসারে কারও ওপর এই ধরনের ঘটনায় শারীরিক আঘাত, ভীতি প্রদর্শন বা জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আসতে পারে। বাংলাদেশের পেনাল কোড ৩২৩ ও ৫০৬ অনুযায়ী সাধারণ আঘাত বা হুমকির শাস্তি ১ থেকে ৩ মাসের জেল বা ৫০০ টাকা জরিমানা। তবে এই শাস্তি হামলার ফলাফল প্রমাণ এবং আঘাতের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে।

/ইউএস/আরকে/
সম্পর্কিত
সাতক্ষীরায় রাস্তা সংস্কার না হওয়ায় ধান রোপণ করে প্রতিবাদ
প্রধানমন্ত্রীসহ রাজনীতিবিদদের নিয়ে ‘কটূক্তির’ প্রতিবাদে মশাল মিছিল
জামায়াত এমপি নজরুলকে এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা, ঝাড়ু মিছিল
সর্বশেষ খবর
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা আজ, অংশ নেবেন তারেক রহমান
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা আজ, অংশ নেবেন তারেক রহমান
চাইনিজ তাইপেকে ৭ গোলে উড়িয়ে দিলো বাংলাদেশ 
চাইনিজ তাইপেকে ৭ গোলে উড়িয়ে দিলো বাংলাদেশ 
জামায়াত ঘোষিত লংমার্চে সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ নাই: রাশেদ খাঁন
জামায়াত ঘোষিত লংমার্চে সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ নাই: রাশেদ খাঁন
ভাড়া নেওয়ার পর বন্ধ থাকতো দরজা-জানালা, সেই ঘর থেকে ৩ লাশ উদ্ধার
ভাড়া নেওয়ার পর বন্ধ থাকতো দরজা-জানালা, সেই ঘর থেকে ৩ লাশ উদ্ধার
সর্বাধিক পঠিত
দেড় ঘণ্টা পর শাহবাগ ছাড়লেন ‘ঢাকাস্থ নোয়াখালীবাসীরা’
দেড় ঘণ্টা পর শাহবাগ ছাড়লেন ‘ঢাকাস্থ নোয়াখালীবাসীরা’
নতুন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল
নতুন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল
পেডিকিউর থেকে কেনাকাটা, পাতায়ায় মার্কিন নাবিকদের ছুটির আমেজ
পেডিকিউর থেকে কেনাকাটা, পাতায়ায় মার্কিন নাবিকদের ছুটির আমেজ
আর্জেন্টিনার হয়ে বিদায়ী ম্যাচ খেলবেন মেসি?
আর্জেন্টিনার হয়ে বিদায়ী ম্যাচ খেলবেন মেসি?
বৃন্দাবনের যে অংশে সন্ধ্যার পর প্রবেশ নিষেধ
বৃন্দাবনের যে অংশে সন্ধ্যার পর প্রবেশ নিষেধ