দুই নারীসহ ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের ১২ সদস্য গ্রেফতার 

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে দুই নারীসহ হানিট্র্যাপ চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।  

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—তুলিয়া আক্তার ওরফে সুমি (২০),  দুলালী ওরফে মীম (২০), ওমর ফারুক (৩২),  মো. শফিকুল ইসলাম শান্ত (৩৮), মো. সজল তালুকদার (৩৮), ইয়াছিন (৪৩),  নাছির খান (৪৬), সাদ্দাম (৩৪), মেহেদী হাসান শাহরিয়ার (৩০), আজিজুল হাকিম টুটুল (৩২), মো. কামরুল ইসলাম (৩৮) ও মো. রাব্বি (২৫)। ডিএমপি মিডিয়া বিভাগ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।  

যাত্রাবাড়ী থানা সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জানুয়ারি ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সায়েদাবাদ জনপদ মোড় এলাকা থেকে এই চক্রের সদস্যরা দুই ব্যক্তিকে অপহরণ করে যাত্রাবাড়ী থানাধীন মাতুয়াইল কবরস্থান রোড এলাকার একটি বাসায় নিয়ে আটক রাখে এবং মারধর করে। এ সময় দুই মহিলার সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তুলে রাখে তারা। গ্রেফতারকৃতরা অপহরণ হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং টাকা না দিলে আপত্তিকর ছবি তাদের পরিচিতজনসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এছাড়া তারা অপহৃতদের মানিব্যাগে থাকা নগদ ৪৮ হাজার টাকা, দুই ভরি ওজনের রুপার চেইন, একটি হীরার আংটিসহ বিকাশ ও কার্ডের মাধ্যমে এটিএম বুথ থেকে সর্বমোট ৫ লক্ষ ৩১ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় গত ১৩ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ী থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়। 

অপর এক ঘটনায় জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রেফতারকৃত তুলিয়া আক্তার সুমির সাথে জনৈক ব্যক্তির পরিচয় হয়। এর সূত্র ধরে সুমি তার সঙ্গে দেখা করার জন্য অনুরোধ করে। এই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ ডিসেম্বর ডেমরা থানাধীন স্টাফ কোয়ার্টার হোসেন প্লাজার সামনে গিয়ে ওই ব্যক্তি সুমির সঙ্গে দেখা করেন। দেখা করার পর সুমি ভিকটিমকে তার বাসায় নিয়ে যায়। বাসায় প্রবেশ করার ১০ মিনিটের মধ্যে অজ্ঞাত ৬-৭ জন লোক তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে তার কাছে আট লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। তাদের দাবি করা টাকা দিতে অস্বীকার করলে তারা তাকে খুন করবে মর্মে হুমকি প্রদান করে। তখন তিনি নিরুপায় হয়ে তার সঙ্গে থাকা নগদ ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা, ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের দুটি আংটি ও তার পরিবারের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা এনে দেন। পরে তারা বিভিন্ন প্রকার হুমকি প্রদান করে বাসা থেকে বের করে দেয়। এই ঘটনায় বাদী মোখলেছুরের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ জানুয়ারি ডেমরা থানায় একটি মামলা রুজু হয়।  

পৃথক দুটি ঘটনা তদন্তে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতরা একই চক্রের সদস্য। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা থানার একাধিক টিম ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে এই চক্রের ১২  সদস্যকে গ্রেফতার করে।  

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, এই চক্রের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে এবং ফাঁদে ফেলে। পরে টার্গেটকৃত ব্যক্তিদের কাছ থেকে নগদ অর্থসহ মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নেয়।  

এই চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।