প্রথম রোজায় পুরান ঢাকায় ইফতারি বিক্রির ধুম

পবিত্র রমজান মাস শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) প্রথম রোজা। এ দিন বিকাল থেকে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী চকবাজার ইফতার বাজারে নেমেছে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ঢল। এ বাজারে সূর্যাস্তের আগে বিশেষ ইফতার সামগ্রী প্রস্তুত ও বিক্রির ঐতিহ্য নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়।

সরেজমিন দেখা গেছে, বাজারজুড়ে সারি সারি দোকানে খেজুর, জিলাপি, কাবাবসহ নানা রকম ঐতিহ্যবাহী খাবার সাজানো। ক্রেতারা ভিড় করছেন পছন্দের খাবার কিনতে। ক্রেতাদের চাহিদা সামাল দিতে বিক্রেতারাও ব্যস্ত সময় পার করছেন।

চকবাজারের এই ইফতার বাজার শুধু কেনাবেচার স্থান নয়, বরং এটি রমজানের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক আবহের এক প্রতিচ্ছবি। এখানে একসঙ্গে মিশে যায় ধর্মীয় অনুশাসন, পারিবারিক বন্ধন ও প্রজন্মান্তরের ঐতিহ্য।

ইফতারি বিক্রির ধুম (ছবি: নাসিরুল ইসলাস)

মাগরিবের আজান ঘনিয়ে এলে কোলাহলমুখর বাজারে তৈরি হয় এক অন্যরকম প্রতীক্ষার পরিবেশ। পুরান ঢাকার হৃদয়ে এই জমজমাট আয়োজন যেন রমজানের চেতনা, ঐক্য আর শেয়ার করা ঐতিহ্যেরই জীবন্ত ছবি।

পুরান ঢাকার স্টার হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে ইফতার কিনতে বিকাল থেকেই ভিড় করেন অনেকে। ইফতার সামগ্রীর মধ্যে গ্রিল চিকেন, টিক্কা কাবারের প্রতি হাফ ২৬০ টাকা, চিকেন ঝাল ফ্রাই প্রতি প্লেট ২৪০ টাকা, বিফ চাপ ১ হাজার ৩০০ টাকা, লাবাং লিটার ২৭০ টাকা, বিফ শিক কাবাব প্রতি শিক ১৪০ টাকা, দই বড়া ৭০ টাকা বাটি, পেস্তা শরবত প্রতি লিটার ৪৫০ টাকা, হালিম প্রতি বাটির পরিমাণ অনুযায়ী বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও ইফতারির কমন আইটেম ছোলা, মুড়ি, বিভিন্ন ধরনের শরবতও এখানে বিক্রি হচ্ছে।

এখানে ইফতার কিনতে আসা মামুন নামে এক ব্যক্তি বলেন, রমজানের প্রথম দিনে ভাবছি, একটু ভালো কিছু কিনে ইফতার করবো। এ জন্য স্টারে আসলাম। কয়েকটি চাপ নিয়েছি, সঙ্গে হালিম কিনেছি। 

ইফতার কিনতে আসা পুরান ঢাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, স্টারের খাবারের মান ভালো। প্রতি বছর এখান থেকেই ইফতারি নেই, এবারও নিচ্ছি।

ইফতারি বেচাকেনায় ব্যস্ত ক্রেতা-বিক্রেতা (ছবি: নাসিরুল ইসলাম)

স্টার হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার মো. রফিক জানান, প্রথম রমজানেই খুব সাড়া পাচ্ছি। ইফতারি বিক্রি খুব ভালো মতোই শুরু করতে পারছি। কোনও সমস্যা হচ্ছে না।

হোটেল রেস্টুরেন্ট ছাড়াও ফুটপাতের বিভিন্ন দোকানেও ইফতার কেনায় ব্যপক সাড়া দেখা গেছে। পুরান ঢাকার রাজার দেউরীর কয়েকটি ফুটপাতের দোকানে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। সেখানে ছোলা, পেঁয়াজু, আলুর চাপ বেগুনির চাপ প্রতি পিচ পাঁচ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এখানে ইফতার কিনতে আসা এক রিকশা চালক বলেন, ফুটপাতে কম দামে ইফতার পাওয়া যায় দেখেই এখান থেকে কিনি। আমরা গরিব মানুষ, কম আয় করি। এ জন্য বড় রেস্টুরেন্ট থেকে কিনতে পারি না।

বিভিন্ন ফলের দোকানেও বিক্রি জমে উঠেছে (ছবি: নাসিরুল ইসলাম)

ইফতারের অংশ হিসেবে বিভিন্ন ফলের দোকানেও বিক্রি জমে উঠেছে। তবে ফলের দাম বাড়ায় বিড়ম্বনায় পরতে হচ্ছে ক্রেতাদের। পুরান ঢাকার কয়েকটি ফলের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, কালো আঙুর ৬০০ টাকা, সাদা আঙুর ৪২০ টাকা, সাদা আপেল ৪২০ টাকা, লাল আপেল ৪০০ টাকা, কমলা ৩৬০ টাকা, নাশপাতি ৪৫০ টাকা, মালটা ৩৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

ফলের দাম জিজ্ঞেস করতে থাকা কয়েকজন ক্রেতা জানান, প্রথম রমজানেই ফলের দাম এত, কয়েকদিন পর কিনতেই পারবো না।

পুরান ঢাকার ফল ব্যবসায়ী সত্তার বলেন, সব ফলের কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়ে গেছে। আমরা বেশি টাকায় কিনে আনি, দাম বাড়াই না।