ঢাকা থেকে চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের কোচ লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা অনুসন্ধানে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেল মন্ত্রণালয়।
বুধবার (১৮ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার (১৮ মার্চ) ট্রেনটি ঢাকা থেকে চিলাহাটির উদ্দেশে সকাল ৬:৪৫ এ ছেড়ে যায়। সান্তাহার( ২৮৩ কিমি) স্টেশন পার হয়ে তিলকপুর স্টেশনের দিকে যাওয়ার সময় কশান সিগন্যাল অনুসরণ না করায় ২৮৬ কিমি এ তথা বগুড়া জেলার আদমদিঘি উপজেলার বাগমারি এলাকায় ৯টি কোচ লাইনচ্যুত হয়। এতে আহত হন ৬৬ জন। এরমধ্যে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ২০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে, ৪০ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং ৬ জনকে বগুড়া আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়। উদ্ধার কাজ চালানোর জন্য রিলিফ ট্রেন ঈশ্বরদি ও পার্বতীপুর হতে যাচ্ছে।
দুর্ঘটনার সময় প্রকৌশল বিভাগের লোকজন ব্যানার ফ্ল্যাগ ধরে ও কশান মেসেজ দিয়ে রেল চেঞ্জের কাজ করছিল। স্টেশন হতেও কশান অর্ডার দেওয়ার কথা। তা লোকো ড্রাইভার অনুসরণ না করায় ডিরেইলমেন্টের কারণ হিসাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে প্রধান পরিবহন কর্মকর্তার নেতৃত্বে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে৷ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— যন্ত্র প্রকৌশলী, প্রধান প্রকৌশলী ও প্রধান সংকেত প্রকৌশলী।
ঢাকা থেকে বুধবার সন্ধ্যায় ও রাতে ছাড়বে এরকম সবগুলো ট্রেন বের হয়ে এসেছে। শুধু পঞ্চগড় এক্সপ্রেস সেকশন ক্লিয়ার না হলে আসতে পারবে না। চিলাহাটি এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেস, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে সঠিক সময়ে ছাড়া সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে উদ্ধারকার্যক্রম সমাপ্ত হলে এগুলোর কোনোটিই বাধাপ্রাপ্ত হবে না।
যদি উদ্ধারকাজ শেষ নাও হয়, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস সান্তাহার থেকে বিকল্প পথে কুড়িগ্রাম প্রেরণ করা যেতে পারে। উদ্ধার কাজ শেষ না হলে সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া দ্রুতযানও পথিমধ্যে আটকা পড়তে পারে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে ছাড়ার নীলসাগর এক্সপ্রেস ও একতা এক্সপ্রেস কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য রেল কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।