‘নিউ বিডি নীট গার্মেন্টস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) ছিলেন ঢাকার সবুজবাগের এক নারী উদ্যোক্তা। তবে, করোনাকালে আর্থিক সংকটে পড়েন তিনি। পরবর্তীতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে চেয়ারম্যান পদে সোয়াইব আহমেদকে পার্টনার নিযুক্ত করেন। তবে, সেই পার্টনারের সঙ্গে তার স্বামী শামছুল ওয়াদুদ খোন্দকার যোগসাজশে তার ব্যবসা দখলে নেন। তাকে নিজের প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দিয়ে দিতে থাকেন একেক পর এক মামলা। এতে বিপাকে পড়ে আদালতে বারান্দায় ঘুরছেন তিনি। বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুতি জানিয়েছেন এই নারী উদ্যোক্তা।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভুক্তভোগী নারী ঢাকা জজ কোর্টে তার আইনজীবীর চেম্বারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী নারী উদ্যোক্তা বলেন, ২০১৬ সাল থেকে আমার গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান ভালোমতোই চলছিল। কিন্তু, করোনাকালে আর্থিক সংকটে পড়ি। আমরা ব্যাংক থেকে কোনও প্রকার সহায়তা না পেয়ে একজন ব্যবসায়ীক পার্টনার নেয়। শর্তসাপেক্ষে সোয়াইব আহমেদকে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বানাই। কিন্তু, এরপর আমার স্বামী ওয়াদুদকে ব্যবহার করে তারা যোগসাজশে আমাকে ব্যবসা থেকে সরানোর চেষ্টা করে। তার অত্যাচারে আশুলিয়া থানায় আমি জিডি করি। এরপর আমাকে অত্যাচার করে ৫০০ টাকার একটি স্ট্যাম্পে সাক্ষর করিয়ে নেয়। পরবর্তীতে তারা দাবি করে আমার গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান তাদের।”
এই নারী উদ্যোক্তা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “করোনার সময়ে আমি খুব কষ্ট করে এই প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রেখেছি। কিন্তু, এখন তারা আমার প্রতিষ্ঠান দখল করে রেখেছে এবং আমাকে মামলা দিয়ে প্রতিষ্ঠান থেকে বিরত রেখেছে। এই দখল কাজে যুক্ত হয়েছে আমার স্বামী শামসুল ওয়াদুদ খন্দকার। সে আমাকে বিয়ে করার জন্য হলফনামা করে কিন্তু রেজিস্ট্রি করেনি। তারা একটি সিন্ডিকেট। আমার স্বামী এখন দাবি করছে, আমাদের নাকি বিয়েই হয়নি। অথচ, আমার স্বামী বিভিন্ন সময়ে আমার থেকে ৭৯ লাখ টাকা নেয়।”
তিনি বলেন, “ব্যবসা হাতিয়ে নেয়ার জন্য আমার স্বামী বাসা থেকে ব্যবসার চুক্তিপত্র, চেক নিয়ে গেছে। আমার স্বামী যখন বিয়ের কথা অস্বীকার করছে তখন আমি একটি ধর্ষণ মামলা করি। এরপর থেকেই আমার স্বামী ও ব্যবসায়ী পার্টনার দু’জনই মিলে আমাকে হেনস্থা করছে। ঢাকা, বগুড়া, জামালপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় আমার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দিয়েছে। এসব মামলায় মাসের প্রায় প্রত্যেকটা দিন আমাকে আদালতের বারান্দায় ঘুরতে হচ্ছে।”
নিজে মামলা করেছেন জানিয়ে এই নারী বলেন, আমার মামলায় আসামিদের গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। আসামিরা ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগের প্রভাব দেখিয়েছে, এখন জামায়াতের প্রভাব দেখাচ্ছে। অথচ, আমি বিএনপি পরিবারের সন্তান। তারেক রহমান লন্ডনে থাকা অবস্থায় আমি মিছিল মিটিংয়ে অংশ নিয়েছি। আমি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এর বিচার চাই।”
বাদীপক্ষের আইনজীবী সফিক জামান বলেন, “গত ৫ আগস্ট পরবর্তী শিল্প-বাণিজ্য খাতের অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জালিয়াতির মাধ্যমে ‘নিউ বিডি নিট গার্মেন্টস লি.’ জবরদখল করেছে, যা একটি গভীর অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ডজনখানেক মিথ্যা মামলার মাধ্যমে আমার মক্কেল বিচারিক ও হাজতি নির্যাতনের শিকার করা হয়েছে, যা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আদালতের মাধ্যমে এই জালিয়াতি চক্রের যুগান্তকারী শাস্তি নিশ্চিত হবে এবং ভুক্তভোগী তার বৈধ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি ফিরে পাবেন।”