পহেলা বৈশাখে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করতে হবে সব অনুষ্ঠান

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আয়োজিত সব অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকাল ৫টার পর এসব এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশও সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক কার্যপত্রের মাধ্যমে এ নির্দেশনার কথা জানানো হয়।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজধানীর রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, হাতিরঝিল ও রবীন্দ্র সরোবরে অনুষ্ঠিত  নববর্ষের সব আয়োজন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করতে হবে।

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নববর্ষ উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ, স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে নববর্ষের দিন (১৪ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মেট্রোরেল স্টেশন সারাদিন বন্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

হাতিরঝিল ও রবীন্দ্র সরোবরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এবং কোস্টগার্ডের নৌ টহল থাকবে। ইভটিজিং, পকেটমার ও যেকোনও উশৃঙ্খলতা প্রতিরোধে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কথাও জানানো হয়েছে।

নিরাপত্তার স্বার্থে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে ফানুস ও আতশবাজি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারবিহীন কোনও যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না।

বড় জনসমাগমস্থলে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ঢাকা ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। রমনা পার্ক এলাকায় জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য মেডিকেল টিম ও অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত থাকবে।

উৎসবের ভিড়ে কেউ হারিয়ে গেলে সহায়তার জন্য রমনা পার্কে ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ কেন্দ্র স্থাপন এবং মাইকিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হবে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব বা উসকানিমূলক প্রচার ঠেকাতে পুলিশের সাইবার ইউনিট ও সিআইডি সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শুধু রাজধানী নয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি জেলাগুলোতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উৎসব ঘিরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।