যানজট নিরসনে সড়কে বসছে আধুনিক সিগন্যাল বাতি

রাস্তায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল সুশৃঙ্খল রাখা, যানজট কমানো এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে রাজধানীর সড়কগুলোতে বসানো হচ্ছে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি। ইতোমধ্যে ঢাকার সাত মোড়ে ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি বসানোর কাজ শেষ হয়েছে।

এছাড়া আগামী ৬ মাসের মধ্যে বসানো হবে আরও ৫০টি সিগন্যাল বাতি। এর মধ্যে ১৫টির কাজ চলছে, যা আগামী জুন মাসের মধ্যে শেষ হবে। নতুন করে আরও ৩৫টি পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। বসানো শেষ হলে এ সুবিধা আরও দৃশ্যমান হবে। পরে গুরুত্বপূর্ণ ১২০টি ক্রসিংয়ের সবগুলোতে ধাপে ধাপে এ ব্যবস্থা চালু করা হবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রস্তুতকৃত এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দুই সিটি করপোরেশন ও ডিএমপিকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, সংকেত বাতি ও কন্ট্রোলার (নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা) সবই স্থানীয় বাজার থেকে পাওয়া উপকরণ দিয়ে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হচ্ছে। এটি মূলত সেমি অটোমেটেড সিগন্যাল এইড। একটি বোতামের মাধ্যমে এ ব্যবস্থাকে ম্যানুয়াল কিংবা স্বয়ংক্রিয়, দুই মোডেই সেট করা যাবে। কম যানবাহন থাকলে নির্ধারিত সময়ের জন্য স্বয়ংক্রিয় মোডে চলবে। গাড়ির চাপ বেশি হলে ম্যানুয়ালি সময় পরিবর্তন করে নেওয়া যাবে। 

শুরুতে এ ব্যবস্থা সনাতন (ম্যানুয়াল) পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। অর্থাৎ সংকেত বাতি (লাল, সবুজ ও হলুদ) জ্বলা-নেভার বিষয় সনাতন পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। পরে ধাপে ধাপে এ পদ্ধতি স্বয়ংক্রিয় করা হবে।

সূত্র মতে, স্থানীয় সরকার বিভাগে গত ৩০ মার্চ এ সংক্রান্ত এক সমন্বয় সভার আয়োজন করা হয়। বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বুয়েট ও দুই সিটি করপোরেশনের প্রথম ধাপের চুক্তির আওতায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২২টি আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি স্থাপনের কথা ছিল। এর মধ্যে সাতটির কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ১৫টির কাজও প্রায় শেষদিকে।

জানা গেছে, এরইমধ্যে জাহাঙ্গীর গেট, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে, বিজয় সরণি, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর, কাওরান বাজার ও ফার্মগেটে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি সচল রয়েছে। আগামী জুনে চালুর অপেক্ষায় থাকা ১৫টির মধ্যে ১০টি বসছে শিক্ষা ভবন মোড়, কদম ফোয়ারা, মৎস্য ভবন মোড়, শাহবাগ, কাকরাইল মসজিদ মোড়, মিন্টো রোড মোড়, মহাখালী, খিলক্ষেত, বিমানবন্দর এবং আবদুল্লাহপুর এলাকায়। বাকি পাঁচটির অবস্থান জানা যায়নি।

এদিকে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি স্থাপনের জন্য নতুন করে আরও ৩৫টি পয়েন্ট প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটিতে ১৭টি ও দক্ষিণ সিটি এলাকায় ১৮টি বসানো হবে। এই পয়েন্টগুলোতে কাজ দ্রুত করার জন্য বুয়েটকে নকশা প্রণয়ন এবং সিটি করপোরেশনগুলোকে সিভিল ও ইলেকট্রিক কাজ শেষ করার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রাজিব খাদেম বলেন, সরকারপ্রধানের নির্দেশনায় নগরীতে আরও ৩৫টি ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি), ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সঙ্গে সমন্বয় সভা হচ্ছে। কোন পয়েন্টে সিগন্যাল বাতি স্থাপন করা হবে ও সেগুলোর অর্থায়ন কীভাবে হবে এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। এসব কাজ শেষ হলে দ্রুত অবকাঠামোর কাজ হবে।

দক্ষিণ সিটির ১৮টি পয়েন্টের মধ্যে আছে আজিমপুর, নিউমার্কেট, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, মিরপুর রোডের ধানমন্ডি-৬, ধানমন্ডি-৭, কলাবাগান, পান্থপথ, ধানমন্ডি-২৭, কাঁটাবন, বিজয়নগর (নাইটিঙ্গেল মোড়), ফকিরাপুল, দৈনিক বাংলা, বঙ্গভবন, গুলিস্তান স্কয়ার, জিপিও জিরো পয়েন্ট, তোপখানা (পল্টন মোড়)।

উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৭টি পয়েন্টের মধ্যে আছে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, আসাদ গেট, গণভবন এলাকা, থানা ক্রসিং, কলেজ গেট, লেক রোড, আগারগাঁও, বিআইসিসি ক্রসিং, টেকনিক্যাল মোড়, মাজার রোড, মিরপুর-১, মিরপুর থানা এলাকা, সনি হলের সামনে, মিরপুর-১০ এবং মিরপুর-১৪।

সূত্র বলছে, নতুন এ ব্যবস্থায় থাকবে ‘প্রগ্রেসিভ সিগন্যাল পদ্ধতি’ ও স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। যেসব স্থানে ইতোমধ্যেই কাজ শেষ হয়েছে, সেখানে দ্রুত সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। নতুন সিগন্যালগুলোতে ক্যাবলিং করার সময় সিসি ক্যামেরার জন্য অতিরিক্ত একটি ক্যাবল লাইনের ব্যবস্থা রাখা হবে। জনদুর্ভোগ কমাতে সিগন্যাল স্থাপনের কাজ হবে মূলত রাতে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এতে কিছু সতর্কতার ব্যবস্থা থাকবে। যেমন, কোনও সিগন্যালে বেশি সময় লাগলে সেটিও জানা যাবে। পথচারী পারাপারের জন্য আলাদা সিগন্যাল থাকবে। এটি যে কোনও সময় আপডেট করা যাবে।

এদিকে এমন ব্যবস্থা চালু হলে পুলিশকে আর রাস্তায় দাঁড়িয়ে হাত দেখাতে হবে না। সিগন্যালের মাধ্যমে ট্রাফিক বাতি দেখানো হবে। পুলিশ চাইলে যে কোনও সময় যে কোনও সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।

এ বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সড়কে যান চলাচলে শৃঙ্ক্ষলা ফেরানো ও যানজট কমাতে আধুনিক সিগন্যাল বাতি বসানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে সাতটি স্থানে বসানো হয়েছে। জুনের মধ্যে আরও কিছু স্থানে বসানোর কাজ শেষ হবে।