জাতিসংঘের সহায়তা ১ শতাংশের কম

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সংসদে আলোচনা চায় সিভিল সোসাইটি 

রোহিঙ্গা সংকটে স্থানীয়করণ ও প্রত্যাবাসন রোডম্যাপের দাবি করেছে সিভিল সোসাইটি। রোহিঙ্গাদের স্থায়ী প্রত্যাবসনের দাবি জানিয়ে বলা হয়, রোহিঙ্গা সংকটের এই সমাধানে জাতীয় সংসদে আলোচনা করতে হবে।  

সোমবার (১৮ মে) রাজধানী ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘কক্সবাজার সিএসও এনজিও ফোরাম (সিসিএনএফ) এবং ইকুইটি জাস্টিটিজ ওয়ার্কিং গ্রুপের (ইকুইটিবিডি)’ যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করা হয়।  

সিভিল সোসাইটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাতিসংঘের নেতৃত্বে প্রতিবছর রোহিঙ্গা ও স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য বা জয়েন্ট রেসপন্স প্লান (জেআরপি) আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে ৯ শতাংশ তহবিল, কিন্তু স্থানীয় এনজিওর কাছে ১ শতাংশের চেয়ে কম তহবিল। আর এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারকে রোহিঙ্গা সংকটে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তা দিতে হচ্ছে।  

সিসিএনএফ ও ইকুইটিবিডির প্রধান মডারেটর রেজাউল করিম চৌধুরীর নেতৃত্বে সংবাদ সম্মেলনের উপস্থিত ছিলেন— ইকুইটিবিডির সমন্বয়কারী মোস্তাফা কামাল আকন্দ ও মো. ইকবাল উদ্দিন এবং সিসিএনএফের সমন্বয়ক মো. শাহিনুর ইসলাম। 

সংসাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে মো. শাহিনুর ইসলাম বলেন, “জাতিসংঘের নেতৃত্বে প্রতিবছর রোহিঙ্গা ও স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য বা জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি) গ্রহণ করে আসছে। এই পরিকল্পনা মূলত জাতিসংঘ নির্ভর একটি পরিকল্পনা। এটা তাদের তহবিল সংগ্রহের একটা ব্যবস্থা। গত বছরের জেআরপির মোট ৯৩৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৮৭ শতাংশ তহবিল জাতিসংঘের কাছে ছিল, আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে ৯ শতাংশ তহবিল, কিন্তু স্থানীয় এনজিওর কাছে ১ শতাংশের এর চেয়ে কম তহবিল।”  

মো. শাহিনুর ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা সংকটে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তা দিয়েছে, এমনকি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সরকার এই সংকটে সহায়তা করছে। কিন্তু এসব অবদান বর্তমান জেআরপি কাঠামোয় প্রতিফলিত হয়নি। বরং এটি মূলত জাতিসংঘ-নির্ভর তহবিল সংগ্রহের একটি কাঠামো হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।”  

মো. শাহিনুর ইসলাম জানান, জেআরপির কমপক্ষে ২৫ শতাংশ তহবিল স্থানীয় এনজিওর কাছে ও স্থানীয় মানুষের জন্য বাস্তবায়ন করতে হবে। আর কার মাধ্যমে কত তহবিল বাস্তবায়ন করা হবে, সেই পরিকল্পনা জেআরপি-তে থাকতে হবে। 

ইকুইটিবিডির সমন্বয়কারী মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন, “বর্তমান নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দায়িত্ব নিতে হবে। তাই এটার জন্য রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিশন গঠন করতে হবে। রোহিঙ্গা সংকট নিরসন জাতীয় সংসদে আলোচনা করতে হবে। সিভিল সোসাইটি জাতীয় সংসদে আলোচনার মাধ্যমে এর স্থায়ী সমাধান চায়।”  

তিনি আরও বলেন, “রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানো হয়েছে, তাই আগামী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ন্যায়বিচার ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সম্মেলনের আয়োজন করতে হবে। যার মূল উদ্দেশ্য হবে একটি প্রত্যাবাসন রোডম্যাপ গঠন করা।”  

ইকুইটিবিডির প্রধান মডারেটর রেজাউল করিম চৌধুরীর বলেন, “রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ করার জন্য ইউএনএইচসিআর আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করছে, তারা অ্যাক্টেড, অ্যাকশন এইড এবং ইউনিসেফ টিডিএইচ (তেরে দেজ ওম)-এর মতো আন্তর্জাতিক এনজিওর মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়ন করছে। অথচ তাদের কাজের একটা অংশ স্থানীয় এনজিওর মাধ্যমে করার কথা। সেটা তারা তোয়াক্কা করছে না।”  

রেজাউল করিম চৌধুরীর ইএনএইচআরের সমালোচনা করেন বলেন, “তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্থায়ী আবাসন তৈরি করছে। এর জন্য সরকার, বন বিভাগ বা স্থানীয় মানুষের মতামত গ্রহণ করেনি। অনেক দেশে সরকারের অনুমতি ছাড়া জাতিসংঘ কোনও কাজ করতে পারে না, যেমন নেপালে কাজ করতে গেলে সেই দেশের অনুমতি নিয়ে কাজ করতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশে সেটা হচ্ছে না। দেশের স্বার্থ সংরক্ষেণে জাতিসংঘের উচিত সব কাজের জন্য সরকারের অনুমতি নেওয়া।”