রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা

বিচার বিলম্বে যত নাটকীয় চেষ্টা সোহেল ও তার স্ত্রীর

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধষর্ণের পর গলা কেটে হত্যা মামলাটি মাত্র ৪ কার্যদিবসে কার্যক্রম শেষ করে পঞ্চম কার্যদিবস ৭ জুন রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছেন ট্রাইব্যুনাল।

এ চার দিন আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে আদালতে হাজির করা হয়। আসামি সোহেল রানাকে আনা হয় কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে। আর স্বপ্নাকে আদালতে আনা হয় গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে।

মামলার ৪ দিনই সোহেলের মুখে ডলারে নাম প্রকাশ, কখনও মূর্ছা গেছেন স্বপ্না, কখনও অসুস্থ, কখনও অজ্ঞান, কখনও কাঁপাকাঁপি করার ভানসহ নানান নাটক করে চলেছেন স্বপ্না।

শুনানির দিনগুলোতে অসুস্থ কিংবা মূর্ছা যাওয়ার ভান করলে বৃহস্পতিবারের (৪ জুন) কর্মকাণ্ড অতীতকে ছাড়িয়ে গেছে। এদিন বিচার চলাকালীন সারাক্ষণ কাঁদতে দেখা গেছে তাকে। সোহেল রানাকেও বারবার তার স্ত্রীর দিকে তাকাতে দেখা যায়।

একপর্যায়ে হঠাৎ দুপুর ১টার দিকে স্বপ্না তেড়ে মারতে যান তার স্বামী আসামি সোহেল রানাকে। আসামির ডকে তখন দুই নারী পুলিশ তাকে নিবৃত করেন। আদালতের মধ্যেই নারী পুলিশ চড় তোলেন তাকে মারার জন্য। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালতে হঠাৎ সামান্য শোরগোল শোনা যায়।

তখন বিচারক পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপে করেন। তিনি আসামিদের বলেন, ‘‘আপনারা দুজনে যুক্তিতর্ক নীরবে শোনেন। গতকাল আত্মপক্ষ শুনানিতে আপনাদের বক্তব্য শুনেছি। আজ আপনারা যুক্তিতর্ক শোনেন। না হলে আপনাদের হাজতখানায় পাঠানো হবে। যুক্তিতর্ক শুনানিতে আসামির উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়। এরপরও অঝোরে কাঁদে স্বপ্না, নীরব দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল সোহেল।

আসামি সোহেলও কম যায় না। আদালতে আনা নেওয়ার পথে ‘ডলার’ নাটক মঞ্চস্থ করে। কখনও পুলিশ হেফাজতে অসুস্থ হওয়ার ভান করে। আবার কখনও কখনও আদালতে বলে, ‘‘দোষ আমি করেছি, আমার স্ত্রী কোনও দোষ করেনি।’’ বৃহস্পতিবার স্ত্রী স্বপ্না সারাক্ষণ কাঁদার সময় তার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল সোহেল।

আরও পড়ুন:

শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: সোহেল রানার জবানবন্দিতে যা উঠে এলো

রামিসা হত্যা: সর্বোচ্চ সাজা চায় রাষ্ট্রপক্ষ, লঘুদণ্ডের দাবি আসামিপক্ষের

শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা, রায় রবিবার