নারী ও শিশু খাতে বরাদ্দ কমানো উদ্বেগজনক: খুশি কবির

নারী ও শিশু উন্নয়ন খাতে বাজেট বরাদ্দ কমানোর প্রস্তাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার ও উন্নয়নকর্মী খুশি কবির। তিনি বলেছেন, বাজেটে নারীর অগ্রগতির বিষয়টি যথাযথভাবে প্রতিফলিত না হলে নারী-পুরুষ সমতা অর্জনের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত বাজেট প্রস্তাবে নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের জন্য যে বরাদ্দ রাখা হয়েছে, তা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৩৭১ কোটি টাকা কম।

খুশি কবির বলেন, নারী-পুরুষের ব্যবধান কমাতে অতীতে কিছু অগ্রগতি হলেও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নারীর জন্য আলাদা উদ্যোগ ও বরাদ্দ ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বরাদ্দ কমে গেলে নারীর নাগরিক হিসেবে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার অগ্রযাত্রা ধীর হয়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, বাজেটে নারীবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি থাকা জরুরি। শুধু একটি আলাদা খাতে বরাদ্দ নয়, বরং প্রতিটি খাতেই নারীর জন্য কী রাখা হয়েছে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তার মতে, স্বাস্থ্য খাতে নারীদের জন্য কী কর্মসূচি ও বরাদ্দ আছে, শিক্ষা খাতে কী ব্যবস্থা রয়েছে এবং রাস্তাঘাট ও পরিবহন খাতে নারীর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার উদ্যোগ আছে কিনা, তা স্পষ্ট হওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, নিরাপদ সড়ক ও অবকাঠামো না থাকলে নারীরা বাস্তবে সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন না, ফলে উন্নয়ন কার্যকর হয় না।

খুশি কবির বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক হচ্ছে নারী। আমরা নারীদের অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছি। বিশ্বব্যাপী আমাদের একটা সুনাম হয়েছিল, সেটা হলো নারী-পুরুষের ব্যবধান কমার কিছু কিছু ক্ষেত্র আমরা তৈরি করেছিলাম। এটা সম্ভব হয়েছে সবাই মিলেই কাজ করেছে বলেই। পাশাপাশি সরকারের কিছু উদ্যোগ ছিল।

তিনি আরও বলেন, “নারী যেন দেশের নাগরিক হিসেবে সমান সুযোগ পায়, সে লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে নারীর জন্য বাজেট বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হলে সরকার কীভাবে তাদের অগ্রগতি নিশ্চিত করবে, সেটি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। নারীর ক্ষমতায়ন, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং সমাজে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে হবে, যাতে তারা নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে এবং দেশের উন্নয়নে আরও কার্যকর অবদান রাখতে পারে।

তিনি বলেন, “আমরা জানতে চাই—নারী খাতে বরাদ্দ কেন কমানো হয়েছে, কী কারণে কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য খাতে নারীদের জন্য বিশেষ কোনও বরাদ্দ বা কর্মসূচি রাখা হয়েছে কিনা, সেটিও জানা জরুরি। এসব প্রশ্ন উত্থাপন ও মূল্যায়ন না করলে নারীর অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী; তাদের পিছিয়ে রেখে কোনও দেশই টেকসই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগোতে পারে না।”