রাখাইনদের ভূমি সংকট, শ্মশান বেদখল ও পুনর্বাসন সমস্যা সমাধানের দাবি

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় রাখাইন সম্প্রদায়ের ভূমি সংকট, শ্মশান বেদখল এবং পুনর্বাসন সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছে সিটিজেনস ফর হিউম্যান রাইটসের একটি প্রতিনিধি দল। ১২-১৪ জুন অনুষ্ঠিত পরিদর্শনে দলটি শ্রীমঙ্গল ও মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধ বিহার, নয়াপাড়া শ্মশানভূমি এবং পায়রা বন্দরের কারণে উচ্ছেদ হওয়া ছয়টি রাখাইন পরিবারের পুনর্বাসন এলাকা ঘুরে দেখে। 

রবিবার (১৪ জুন) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা জানায়, পরিদর্শনে তারা জানতে পারেন, শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহারের জমি ২ একর ৪৪ শতাংশ থেকে কমে বর্তমানে ৬৫ শতাংশে নেমে এসেছে। মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধ বিহারের জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগও পাওয়া যায়। এছাড়া নয়াপাড়ার রাখাইন শ্মশানভূমির একটি অংশ বেদখলের অভিযোগ এবং পায়রা বন্দরের কারণে উচ্ছেদ হওয়া ছয়টি পরিবার দীর্ঘদিনেও স্থায়ী পুনর্বাসন না পাওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। 

পরে প্রতিনিধি দল স্থানীয় ‘আদিবাসী’ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদিকের সঙ্গে মতবিনিময় করে। এসময় ভূমি সুরক্ষা, শ্মশানের জন্য জমি বরাদ্দ, রাখাইন সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর দ্রুত পুনর্বাসনসহ পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়গুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।  

মতবিনিময় সভায় বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলের বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি মং চৌ থিন তালুকদার, রাখাইন বুদ্ধিস্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মং হ্লা সেইন রাখাইন, শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি উ চো রাখাইনসহ স্থানীয় ‘আদিবাসী’ নেতারা রাখাইনদের ভূমি দখল, শ্মশান সংকট, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান অবহেলা এবং পায়রা বন্দরের কারণে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর পুনর্বাসন বিলম্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।