সংস্কৃতিবিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, ঐক্যে বৈচিত্র্যই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি। বাংলাদেশে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী, ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে। এই বৈচিত্র্যকে ধারণ করেই আমাদের জাতীয় পরিচয় গড়ে উঠেছে। সংস্কৃতিই একটি জাতির আত্মা, আর সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমেই মানুষের প্রকৃত আত্মপরিচয় বিকশিত হয়।
বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১০টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে পঞ্চমবারের মতো দেশের খ্যাতিমান সংগীতশিল্পীদের অংশগ্রহণে দুই দিনব্যাপী ‘রবীন্দ্র-নজরুল উৎসব’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মানবতা, কৃষক ও পল্লী উন্নয়নের কথা বলেছেন এবং তাঁর কর্মে মানবিক চেতনার প্রকাশ ঘটেছে। অন্যদিকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সাধারণ মানুষের কবি, যিনি শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে আপসহীন কণ্ঠস্বর ছিলেন। নতুন প্রজন্মের কাছে রবীন্দ্র-নজরুলের মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের লোকসংগীত ও লোকঐতিহ্য দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। হাছন রাজা, শাহ আবদুল করিম, রাধারমণ, বিজয় সরকার ও লালন শাহসহ লোকসংগীতের ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সরকার কাজ করছে।
সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. অনিমা রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইস উদ্দিন, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তাহমিনা আক্তার, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন।
আয়োজকেরা জানান, দুই দিনব্যাপী উৎসবের প্রথম দিনটি ‘রবীন্দ্র-পর্ব’ হিসেবে এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবার ‘নজরুল-পর্ব’ হিসেবে উদযাপিত হবে। নজরুল-পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। দুই দিনের এ আয়োজনে দেশের বিশিষ্ট সংগীতশিল্পীরা রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুলসংগীত পরিবেশন করবেন।