‘বডি কন্ট্রাক্টে’ মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন ৭৬ যাত্রী। তবে গোয়েন্দা নজরদারিতে ইমিগ্রেশন পার হওয়ার পর বোর্ডিং গেটে পাঁচ যাত্রী আটকা পড়েন। তাদের আটকা পড়ার খবরে বিমানবন্দর থেকে পালিয়ে যায় আরও ৭১ জন মালয়েশিয়াগামী যাত্রী। এই ঘটনার পর সবার মনে প্রশ্ন জাল ভিসা নিয়ে বোর্ডিং গেট পর্যন্ত কীভাবে গেলো ওই পাঁচ যাত্রী। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছে গোয়েন্দারা। শনিবার (৪ জুলাই) দিবাগত রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই ঘটনা ঘটে।
গোয়েন্দা সংশ্লিষ্টরা জানান, শনিবার রাতে একটি বড় গ্রুপ জাল ভিসায় মালয়েশিয়া যাচ্ছে এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারি বাড়ানো হয়। এর ফলে মালয়েশিয়াগামী যাত্রীদের পাসপোর্ট ভিসা চেক করা শুরু হয়। চেকিংয়ের এক পর্যায়ে বোর্ডিং গেটের কাছে পাঁচজন যাত্রীর ভিসা চেক করে দেখা হয় সেগুলো জাল। তখন তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এই খবর একই গ্রুপের অন্যান্যদের মধ্যে জানাজানি হয়ে গেলে বাকি ৭১ জন বিমানবন্দর থেকে পালিয়ে যায়।
এ তথ্য নিশ্চিত করে বিমানব্ন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ঘটনাটি তারা খতিয়ে দেখছেন। বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সুত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই একটি চক্র বডি কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে বিদেশে লোক পাঠিয়ে আসছে। যেসব দেশে লোক পাঠানো হয় এসব দেশের মধ্যে মালয়েশিয়া অন্যতম। সাড়ে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা খরচ করে কেউ ট্যুরিস্ট ভিসায় কাজ করার উদ্দেশ্যে যায় অথবা জাল ভিসায় সেদেশে পাঠানো হয়। জাল ভিসায় যাওয়ার পর মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশনে ধরা পড়ে। সেখান থেকে পরে দেশে ডিপোর্ট করা হয়। এভাবে অনেক যাত্রীকে মালয়েশিয়া দেশে ফেরত পাঠিয়েছে।
অবৈধ ভাবে বিদেশ যেতে কাগজপত্রে ত্রুটি রেখেই বিনা বাধায় ইমিগ্রেশন পার করিয়ে দেয় একটি অসাধু চক্র। যা ‘বডি কন্ট্রাক্ট’ নামে পরিচিত। এর সঙ্গে বিমানবন্দর এবং এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা জড়িত থাকতে পারে বলে গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শনিবার (৪ জুলাই) রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-মালয়েশিয়া রুটের বিজি-৩৮৬ ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে। রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ফ্লাইটটিতে মোট ২৪৫ জন যাত্রীর ভ্রমণের কথা থাকলেও ৭৬ জন শেষ পর্যন্ত বিমানে ওঠেননি। এর মধ্যে বোর্ডিং গেটে পাঁচজন যাত্রীর ভিসার সঙ্গে পাসপোর্টের তথ্যের অসঙ্গতি ধরা পড়ায় তাদের অফলোড করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিমান সংস্থার চেক-ইন কাউন্টার থেকে ভিসা যথাযথভাবে যাচাই না করেই তাদের ‘ভেরিফায়েড’ হিসেবে বোর্ডিং পাস দেওয়া হয়েছিল। পরে ইমিগ্রেশনও বিদেশযাত্রার অনুমতি দেয়। তবে বোর্ডিং গেটে গিয়ে পাঁচজনের ভিসা জাল বা অবৈধ হিসেবে শনাক্ত হয়।
বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, বিমানে না ওঠা ৭৬ জনই ট্যুরিস্ট ভিসায় মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। তবে একই ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে তাদের মালয়েশিয়ায় থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।