গ্রাম, মহল্লা কিংবা পাড়ার মাঠ—ক্রিকেট, ফুটবল বা যেকোনও টুর্নামেন্টে একটি শব্দ প্রায়ই শোনা যায়, ‘কমিটির টিম’।
কোনও দল বিতর্কিত পেনাল্টি পেয়ে গেল, এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্ত তাদের পক্ষে গেল, কিংবা ম্যাচের সূচি একটু সুবিধাজনক হলো—ব্যস, গ্যালারি থেকে কেউ না কেউ বলে উঠবেন, ‘ওরা তো কমিটির টিম!’ অর্থাৎ, আয়োজক কমিটির সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে দলটি বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে—এমন একটি হাস্যরসাত্মক অভিযোগ।
বছরের পর বছর ধরে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে চলা সেই পরিচিত শব্দবন্ধই এখন জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বফুটবলের আলোচনায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনাকে অনেকেই মজা করে বলেন—‘কমিটির টিম’। কিন্তু কেন?
গ্রামের মাঠ থেকে বিশ্বকাপের মিম
আর্জেন্টিনাকে ‘কমিটির টিম’ বলার পেছনে কোনও আনুষ্ঠানিক ইতিহাস নেই। এটি মূলত সোশ্যাল মিডিয়ায় জন্ম নেওয়া একটি ব্যঙ্গাত্মক মিম।
এই মিমের মূল বক্তব্য হলো—আর্জেন্টিনা নাকি শুধু ভালো খেলেই জেতে না; রেফারি, ভিএআর কিংবা ফিফার বিভিন্ন সিদ্ধান্তও তাদের অনুকূলে যায়। সেই ধারণাকে গ্রামের টুর্নামেন্টের ‘কমিটির টিম’ সংস্কৃতির সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এই ট্রল।
তবে এটি সম্পূর্ণ সমর্থকদের খুনসুটি ও ব্যঙ্গের ভাষা। এর পক্ষে কোনও প্রমাণিত তথ্য নেই।
কেন আর্জেন্টিনাকেই বলা হয়?
২০২১ সালের কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালের ফাইনালিসিমা এবং একই বছরের বিশ্বকাপ জয়ের পর আর্জেন্টিনা বিশ্বফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত দলগুলোর একটি হয়ে ওঠে।
বিশেষ করে লিওনেল মেসিকে ঘিরে কিছু পেনাল্টি, ভিএআর সিদ্ধান্ত ও রেফারিং নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল বিতর্ক হয়েছে। প্রতিপক্ষ সমর্থকদের একাংশ তখন মজা করে বলতে শুরু করেন—আর্জেন্টিনা নাকি 'ফিফার প্রিয় টিম', 'রেফারির টিম' কিংবা 'কমিটির টিম'।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই শব্দবন্ধই মিম সংস্কৃতির অংশ হয়ে ছড়িয়ে পড়ে।
শুধু আর্জেন্টিনা নয়
আসলে বড় দলগুলোর জন্য এমন ব্যঙ্গ নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে রিয়াল মাদ্রিদকে 'ইউইএফএর টিম', বার্সেলোনাকে 'রেফারির টিম'—এমন নানা তকমা দিয়েছেন প্রতিপক্ষ সমর্থকেরা। ব্রাজিল, ফ্রান্স কিংবা ইংল্যান্ডও এমন ট্রলের বাইরে নয়।
অর্থাৎ, সাফল্য যত বড়, ট্রলের পরিমাণও যেন তত বেশি।
মিমের ভাষা এখন দৈনন্দিন কথাতেও
মজার বিষয় হলো, 'কমিটির টিম' এখন শুধু খেলাধুলায় সীমাবদ্ধ নেই। কোনও ব্যক্তি অপ্রত্যাশিতভাবে সুবিধা পেলে কিংবা কোনও সিদ্ধান্তে লাভবান হয়েছেন বলে মনে হলে, অনেকেই হাসতে হাসতে বলে বসেন—'ও তো কমিটির লোক!'
অর্থাৎ, স্থানীয় খেলাধুলার একটি পরিচিত কথাই এখন সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয় ভাষার অংশ।
আসল সত্যটা কী?
ফুটবলে রেফারিং নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ভিএআর চালু হওয়ার পরও প্রায় প্রতিটি বড় টুর্নামেন্টেই কোনও না কোনও দল নিজেদের বিরুদ্ধে বা পক্ষে সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
তাই আর্জেন্টিনাকে ‘কমিটির দল’ বলা কোনও আনুষ্ঠানিক উপাধি নয়, কোনও প্রমাণিত অভিযোগও নয়। এটি মূলত প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের তৈরি একটি ব্যঙ্গাত্মক অভিধা, যা গ্রামের মাঠের চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে ফেসবুকের মিম—সব জায়গাতেই সমান জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
শেষ পর্যন্ত ফুটবলের সৌন্দর্য এখানেই—মাঠে থাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আর মাঠের বাইরে থাকে হাসি-ঠাট্টা, খোঁচাখুঁচি আর অন্তহীন ট্রল। 'কমিটির টিম' সেই ফুটবল-সংস্কৃতিরই এক মজার অধ্যায়।