শ্রীলঙ্কাভিত্তিক এয়ারলাইনস ফিটস এয়ারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক যাত্রী হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ সময় ফ্লাইট বিলম্ব, উড়োজাহাজের ভেতরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যাত্রীদের আটকে রাখা, দুর্ব্যবহারসহ নানা অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরছেন ভুক্তভোগীরা। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
সর্বশেষ গত শনিবার ঢাকা-কলম্বো রুটের একটি ফ্লাইটে ১৮২ যাত্রীকে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা উড়োজাহাজের ভেতরে বসিয়ে রাখার অভিযোগ ওঠে। যাত্রীদের দাবি, রাত ২টা ১৫ মিনিটে উড্ডয়নের কথা থাকলেও কারিগরি ত্রুটির কথা জানিয়ে সকাল ৭টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত তাদের উড়োজাহাজ থেকে নামতে দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় অনেক যাত্রী শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করেন।
এটি বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয় বলে দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে 'Fits Air Sufferers' নামে একটি ফেসবুক গ্রুপে শতাধিক যাত্রী নিজেদের ভোগান্তির অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। সেখানে নিয়মিত ফ্লাইট বিলম্ব, দুর্বল সেবা ও যাত্রী হয়রানির অভিযোগ উঠে এসেছে।
ভুক্তভোগী সোনিয়া রিফাত লিখেছেন, বছরের পর বছর ফিটস এয়ার যাত্রীদের হয়রানি করে আসছে। এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের এক হয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জোবায়ের হোসেন লিখেছেন, ১০ জুলাইয়ের ফ্লাইটে ছয় ঘণ্টা বিলম্ব হয়। তার অভিযোগ, যাত্রীদের দীর্ঘ সময় উড়োজাহাজে আটকে রাখা হয়েছিল এবং সেবার মান ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের।
মহিউদ্দীন হিমেল জানান, গত বছরের নভেম্বরে মালদ্বীপ থেকে শ্রীলঙ্কা ফেরার পথে তাদের ফ্লাইট প্রায় ১৫ ঘণ্টা বিলম্বিত হয়েছিল। তার দাবি, ফিটস এয়ারের ক্ষেত্রে এমন বিলম্ব নিয়মিত ঘটনা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ফিটস এয়ারের মুখপাত্র পরিচয় দেওয়া রানা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তাদের ফ্লাইট মাত্র ৪৫ মিনিট বিলম্বিত হয়েছিল। পরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে সংস্কার, বৈরী আবহাওয়া এবং এভিয়েশন ওয়ার্নিংয়ের কারণে উড্ডয়ন বিলম্বিত হয়।
যদিও যাত্রীদের তোলা ছবি ও সময়ের তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত রাত ২টা ১৫ মিনিটের পরিবর্তে ফ্লাইটটি সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে উড্ডয়ন করে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বলেন, উড্ডয়নের আগে প্রকৌশলীরা বিমানের হাইড্রোলিক ফ্লুইডের ঘাটতি শনাক্ত করেন। ত্রুটি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত বিমানটিকে উড্ডয়নের অনুপযুক্ত ঘোষণা করা হয়। এ কারণেই ফ্লাইট ছাড়তে বিলম্ব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ফিটস এয়ারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক যাত্রী ভোগান্তির অভিযোগ থাকলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখবে।
বেবিচকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ফিটস এয়ারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ধারাবাহিক যাত্রী হয়রানির বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ্য, ফিটস এয়ার শ্রীলঙ্কার একটি বেসরকারি আন্তর্জাতিক বাজেট এয়ারলাইনস। ২০২৪ সালের ১৬ এপ্রিল ঢাকা-কলম্বো রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু করে প্রতিষ্ঠানটি।