নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার নয়াপুরের আবাসিক এলাকায় প্রস্তাবিত একটি মশার কয়েল কারখানাকে পুনরায় পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়ার উদ্যোগের অভিযোগ তুলে তা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক শাহনাজ মুন্নী।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। এ সময় নয়াপুর গ্রামের মসজিদের পক্ষ থেকে মাইনুদ্দিন মোল্লা, মন্দিরের পক্ষ থেকে সাধন সাহা এবং এলাকাবাসীর প্রতিনিধি হিসেবে কবি ও পরিবেশকর্মী শাহেদ কায়েস উপস্থিত ছিলেন।
শাহনাজ মুন্নীর অভিযোগ, পরিবেশ অধিদফতরের নয়টি পৃথক তদন্তে এলাকাটি আবাসিক হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পরও আগামী ৬ আগস্ট আপিল শুনানির মাধ্যমে ‘শারমীন কেমিক্যাল ওয়ার্কস’-এর জন্য আবারও পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, ‘৩০ বছর ধরে সাংবাদিক হিসেবে অন্যের সংবাদ সম্মেলন কভার করেছি। কিন্তু এবার পরিবেশ সন্ত্রাসের শিকার হয়ে নিজেকেই সংবাদ সম্মেলন করতে হচ্ছে।’
তার ভাষ্য, সোনারগাঁয়ের নয়াপুর গ্রামের মসজিদ, মন্দির ও একটি মহিলা মাদ্রাসাসংলগ্ন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কারখানাটি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি চালু হলে বিষাক্ত দূষণের কারণে স্থানীয় মানুষের বসবাস কঠিন হয়ে পড়বে।
শাহনাজ মুন্নী জানান, এলাকাবাসীর অভিযোগের পর পরিবেশ অধিদফতরের প্রধান কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে মোট নয়বার তদন্ত করা হয়। প্রতিটি তদন্তেই এলাকাটিকে আবাসিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং সেখানে আইন অনুযায়ী মশার কয়েল কারখানা স্থাপনের অনুপযোগী বলে মত দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশ অধিদপ্তর কারখানাটির অবস্থানগত ছাড়পত্র বাতিল করে। পরে আপিলের মাধ্যমে ছাড়পত্র মিললেও, পরবর্তী তদন্তে সেটিও বাতিল করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, পরিবেশ অধিদফতরের নয়বার তদন্ত ও দীর্ঘ অনুসন্ধানের ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত মাত্র ১৫ মিনিটের আপিল শুনানিতে কীভাবে বদলে যেতে পারে?
তিনি আরও বলেন, একই এলাকায় আগে ‘ইমাম পোলট্রি ফার্ম’ পরিবেশ আইন অনুযায়ী বন্ধ করা হয়েছিল এবং বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছিল। সে অবস্থায় আরও বেশি দূষণকারী একটি কয়েল কারখানার অনুমোদনের উদ্যোগ আদালতের সিদ্ধান্তের চেতনারও পরিপন্থী।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রস্তাবিত কারখানাটিকে নতুন করে পরিবেশগত ছাড়পত্র না দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ সংশোধন করে পরিবেশ অধিদফতরকে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর, মন্ত্রণালয়ের আপিল বোর্ড বাতিল করে পরিবেশ আদালতের মাধ্যমে আপিল নিষ্পত্তির ব্যবস্থা চালু এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘শারমীন কেমিক্যাল ওয়ার্কস’-এর আবেদন চূড়ান্তভাবে নামঞ্জুর করার দাবি জানান।