বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীর দূষণ বন্ধে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদী এবং নদী-সংযুক্ত খালগুলোতে শিল্প, পয়ঃ ও অন্যান্য বর্জ্যজনিত দূষণ নিয়ন্ত্রণে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, ঢাকার চারপাশের নদীগুলো দূষণমুক্ত করতে শিল্প মালিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন। কারখানার দূষিত পানি যাতে খাল বা নদীতে না পড়ে, সে জন্য কার্যকর বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপন জরুরি।
তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের দেশের সম্পদ সৃষ্টি করতে হবে। দেশে কলকারখানা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ দূষণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সমন্বিতভাবে কাজ না করলে কোনো উদ্যোগই টেকসই হবে না।
সভায় দেশের শীর্ষ শিল্প মালিক সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও এফবিসিসিআইয়ের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। এর জবাবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে ইটিপি স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। অন্যায়ভাবে ব্যবসায়ীদের হয়রানি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। ইটিপিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক আমদানিতে শুল্ক কমানো বা শূন্যে নামিয়ে আনার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার বলেন, বুড়িগঙ্গাকে টেমস নদীর মতো দূষণমুক্ত ও নান্দনিক করে গড়ে তোলার স্বপ্ন রয়েছে। সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করলে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও শীতলক্ষ্যাকে টেমসের মতো করে গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি বলেন, শুধু বুড়িগঙ্গার পানি দূষণমুক্ত করলেই হবে না, তুরাগের উজানের দূষণও বন্ধ করতে হবে। এ ছাড়া গাবতলী ও আশুলিয়ায় নদীর ওপর ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ এবং পর্যটকদের জন্য নদীতে জাহাজ পরিচালনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
সভায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে ‘বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন রূপরেখা’ উপস্থাপন করা হয়। এতে জানানো হয়, বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে একটি কেন্দ্রীয় সেল গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীতে মোট ২২৪টি বর্জ্য নিঃসরণের উৎসমুখ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বুড়িগঙ্গায় ১৬৬টি এবং তুরাগে ৫৮টি উৎসমুখ রয়েছে। এসব উৎসমুখের সঙ্গে বিভিন্ন বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ঢাকা ওয়াসা, সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংস্থা সংশ্লিষ্ট।
কর্মপরিকল্পনায় শিল্পবর্জ্যের উৎসভিত্তিক তালিকা তৈরি, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর ইটিপি স্থাপন ও পরিচালনা নিশ্চিত করা, অনুমোদনহীন ড্রেন শনাক্ত করে বন্ধ করা এবং খাল ও ড্রেন থেকে বর্জ্য অপসারণ করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী খাল ও ড্রেনেজের পাশে এসটিপি, ইটিপি ও ওয়েস্ট-টু-এনার্জি প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।
সভায় বুড়িগঙ্গা ও তুরাগের দূষণ নিয়ন্ত্রণে শিল্পবর্জ্যসহ সব ধরনের বর্জ্যের উৎসমুখ বন্ধ, খাল ও ড্রেনের বর্জ্য অপসারণ, পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং নদীর তলদেশে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, রাজউক, পরিবেশ অধিদফতরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধি, শিল্প মালিকদের সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, পরিবেশ সংগঠনের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।