পাসপোর্ট অধিদফতরকে পাস কাটিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে সরাসরি কয়েকটি বদলির ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ গত ১৬ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসিচব মোহাম্মদ নুরুজ্জামানের সই করা এক অফিস আদেশে অধিদফতরের তিন উপ-পরিচালককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে এমন আদেশ নজিরবিহীন।
অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, এমন ঘটনা অধিদফতরের ওপর মন্ত্রণালয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ। মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যেখানে উপ-পরিচালক থেকে শুরু করে নিম্ন পদস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ক্ষমতা অধিদফতরের মহাপরিচালকের, সেখানে অধিদফতরের মতামত না নিয়ে কিংবা না জানিয়ে বদলি-পদায়ন চেইন অব কমান্ডের ওপর বড় আঘাত। তাদের দাবি, মন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্তের কারণে পাসপোর্ট অধিদফতরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই অফিস আদেশে পাসপোর্ট অদিদফতরের উপ-পরিচালক রোজী খন্দকারকে বরিশাল বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস থেকে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ঢাকার উত্তরায় বদলি করা হয়। ওই একই আদেশে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস উত্তরার উপ-পরিচালক নূরুল হুদাকে বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস সিলেট এবং সিলেটের উপপরিচালক মধুসুদন সরকারকে বরিশালে বদলি করা হয়। এর আগে ময়মনসিংহ পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক শাহ মোহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহকে প্রশাসন ও অর্থের চলতি দায়িত্ব দিয়ে বদলি করা হয়। পরবর্তীকালে ২১ জুন পরিচালক নূরুল হাফিজকে প্রশাসন অর্থ এবং শাহ মোহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহকে পরিচালক ও উন্নয়নে বদলি করা হয়।
জানা যায়, গত ১৮ আগস্টের অফিস আদেশটি অধিদফতরে আসার পর থেকেই এক প্রকার চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অধিদফতর থেকে ঘটনার বিষয়ে অসন্তোষ জানিয়ে পর দিন ১৯ আগস্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে রোজী খন্দকারের বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চলমান বলে উল্লেখ করা হয়। মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠির বিষয়টি বিশ্বস্থ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ওই চিঠির একটি কপি বাংলা ট্রিবিউনের হাতে এসেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউদ্দীন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘প্রথম কথা হলো, মন্ত্রণালয় সব ক্ষমতার অধিকারী। মন্ত্রণালয় যদি কোনও কিছুর আদেশ দেয়, তবে তা অধিনস্থ অধিদফতরগুলো মানতে বাধ্য।’’
তিনি বলেন, ‘‘আমি শুনেছি, এ নিয়ে পাসপোর্ট অফিসের লোকজন অসন্তোষ। কিন্তু এখানে অনেক কিছুই আমাদের মানতে হয়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছেন, তাদের নির্দেশ মানতে হয়। বর্তমান রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায়। সেখানেও অনেক বিষয় তদবির থাকে। সবমিলিয়ে আমাদের অনেক সময় এ ধরনের আদেশ দিতে হয়।’’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল নূরুল আনোয়ার কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, এটা সাংঘর্ষিক বিষয়। এ অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অধীনস্থরা তোয়াক্কা করবে না। এতে করে বিশৃঙ্খলা পরিবেশ তৈরি হবে। বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে বিবেচনা নিয়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন তারা।