পাসপোর্ট অধিদফতরে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ১৮৫ জন নিয়োগের মধ্যে একই গ্রামের ১২১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে অধিদফতর বলছে, অভিযোগটি সঠিক নয়। এটি নতুন নিয়োগ নয়। ২০১৪ সাল থেকে কর্মরত ব্যক্তিদেরই নতুন কোম্পানির মাধ্যমে পুনর্বহাল করা হয়েছে।
পাসপোর্ট অধিদফতরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, একসময় সরকারি দফতরগুলোতে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগের বিধান ছিল। সেই অনুযায়ী পাসপোর্ট অধিদফতরেও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়।
তারা জানান, ২০১৪ সালে সরকারি বিধি অনুসারে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে সম্প্রতি সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নাইট গার্ড নিয়োগ হবে আনসার বাহিনী থেকে এবং এমএলএসএস নিয়োগ হবে সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে। একই সময়ে পূর্বের আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদও শেষ হয়ে যায়।
কর্মকর্তারা জানান, এর ফলে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীদের চাকরির মেয়াদও শেষ হয়ে যায়। পরে তারা মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় চাকরি পুনর্বহালের জন্য অধিদফতরের কাছে আবেদন করেন।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই আবেদনের পর বিষয়টি নিয়ে অধিদফতর মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে সরকারি বিধি অনুসারে অধিদফতরের জন্য কিছু নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে যমুনা স্টার আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ওই কর্মীদের নতুন পদে পুনর্বহাল করা হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, সম্পূর্ণ মানবিক বিষয় বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখানে সরকারি নিয়মের কোনও ব্যত্যয় হয়নি। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল নূরুল আনোয়ার বলেন, ‘আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে জনবল নিয়োগের বিষয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। সেই আলোকে সরকার কর্তৃক মনোনীত ও নিবন্ধিত আউটসোর্সিং জনবল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তরা পূর্ব থেকেই আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কর্মরত ছিল।’
তিনি বলেন, ‘একটি মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একই গ্রামের ১২১ জনের নিয়োগসংক্রান্ত তথ্য সঠিক নয়।









