স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, নিরাপদ ওষুধ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি বলেন, আধুনিক ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে স্বাস্থ্য খাতকে সর্বাগ্রে ডিজিটাল ও প্রযুক্তিবান্ধব করতে হবে। ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টরা নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা নিয়মিত হালনাগাদ রাখলে শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে পারবেন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ‘স্বাস্থ্য খাতে ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের ভূমিকা, অধিকার ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, চিকিৎসক যেমন রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার দিকনির্দেশনা দেন, তেমনি সঠিক ওষুধ প্রয়োগ ও নিরাপদ ব্যবস্থাপনায় কারিগরি দায়িত্ব পালন করেন ফার্মাসিস্টরা। দেশের স্বাস্থ্য কাঠামোর প্রতিটি স্তরে, বিশেষ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও গ্রামীণ হাসপাতালগুলোতে ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের পদ সৃষ্টি ও নিয়মিত নিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। তা না হলে সাধারণ মানুষ মানসম্মত ফার্মাসিউটিক্যাল সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন।
তিনি বলেন, ওষুধ তৈরি থেকে শুরু করে রোগীর হাতে সঠিক মাত্রায় মানসম্পন্ন ওষুধ পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে ফার্মাসিস্টরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের পেশাগত মর্যাদা, যৌক্তিক অধিকার ও উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা সময়োপযোগী স্বাস্থ্য কাঠামোর জন্য অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার পেশাগত বৈষম্য দূর করা এবং দক্ষতা অনুযায়ী পদায়নের বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল। ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের পদোন্নতির সুযোগ, বেতন বৈষম্য নিরসন ও কাজের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আলোচনা সভায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট প্রতিনিধি ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তাদের কর্মক্ষেত্রের বিভিন্ন সংকট ও সমস্যা তুলে ধরেন।
আলোচকরা বলেন, আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যমান অনুযায়ী প্রতি চারজন চিকিৎসকের বিপরীতে অন্তত একজন ফার্মাসিস্ট থাকা প্রয়োজন। তবে দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ফার্মাসিস্টের ঘাটতি রয়েছে।
সভায় ফার্মাসিস্ট নেতারা কয়েক দফা দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ ‘হাসপাতাল ফার্মেসি’ ব্যবস্থা চালু এবং ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের মাধ্যমে ওষুধ বিতরণ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নতুন ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট পদ সৃষ্টি করে দ্রুত নিয়োগ, ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন, চাকরির নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে পদোন্নতির ধারাবাহিক নীতিমালা প্রণয়ন, প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধ এবং নিবন্ধিত ফার্মাসিস্টদের মাধ্যমে কাউন্টার সেবা পরিচালনা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানান তারা।
অনুষ্ঠানে ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় নেতারা, স্বাস্থ্য খাতের প্রতিনিধি, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।