দেশব্যাপী সার উত্তোলন, বিতরণ ও সার বিক্রির ডিলার নিয়োগ কার্যক্রম সরাসরি নজরদারির আওতায় আনতে তিন সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে সরকার। কমিটি এসব কার্যক্রম পরিবীক্ষণ করে কৃষি মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কমিটিবিষয়ক অধিশাখার এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
‘সার বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়কে সহায়তা করার জন্য মন্ত্রিসভা কমিটি’ নামে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনকে। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কমিটি দেশব্যাপী সার উত্তোলন, বিতরণ ও সার ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিবীক্ষণ করে কৃষি মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবে। কমিটির কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা দেবে কৃষি মন্ত্রণালয়।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কমিটি ও অর্থনৈতিক) মো. হুমায়ুন কবির এ প্রজ্ঞাপন জারি করেন।সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃষি মন্ত্রণালয় গত ১০ আগস্ট ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫’-এর সংশোধিত সংস্করণ প্রকাশ করেছে। এর আগে মূল নীতিমালাটি প্রকাশ করা হয়েছিল ২০২৫ সালের নভেম্বরে।
সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন এলাকায় শূন্য থাকা সার ডিলার ইউনিটে নতুন ডিলার নিয়োগের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। ফলে নতুন মন্ত্রিসভা কমিটির কার্যপরিধিতে সার ডিলার নিয়োগকে আলাদাভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এর ফলে শুধু সার আমদানি বা সরবরাহের পরিমাণ নয়, মাঠপর্যায়ে কে সার বিক্রির দায়িত্ব পাচ্ছেন এবং বিতরণব্যবস্থা কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সেটিও কমিটির নজরদারির আওতায় থাকবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও কৃত্রিম সংকট তৈরির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে সরকার। গত ১৭ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কৃষি সচিব সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থানের কথা জানান। একই সময়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেশে সারের মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে বলেও জানানো হয়।









