ঈদে মিলাদুন্নবী: সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শান্তি সমাবেশে মুসল্লিদের ঢল

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজধানীতে জশনে জুলুস করেছে বিভিন্ন সংগঠন। অন্যদিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার উদ্যোগে আন্তর্জাতিক শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে হাজার হাজার মুসল্লির ঢল নামে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী। সমাবেশের আগে তার নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি কদম ফোয়ারা, শিক্ষাভবন, দোয়েল চত্বর ও হাইকোর্ট এলাকা দিয়ে মিছিল সহকারে উদ্যানে প্রবেশ করেন মুসল্লিরা।

শান্তি সমাবেশে বক্তারা মহানবী (সা.) শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণ করে সমাজে ন্যায়, মানবিকতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন।

শোভাযাত্রায় কালেমা খচিত পতাকা, প্ল্যাকার্ড, রঙিন ফেস্টুন ও জাতীয় পতাকা নিয়ে অংশগ্রহণ করেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মুসল্লিরা।

সমাবেশ সভাপতিত্ব করেন ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী (ছবি: নাসিরুল ইসলাম)

বিশাল ব্যানারে ‘ইয়া নবী সালামু আলাইকা’ ও ‘ইয়া রাসূল সালামু আলাইকা’ লেখা ছিল। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল কালেমা খচিত পতাকা, প্ল্যাকার্ড ও বিভিন্ন বার্তাসংবলিত ফেস্টুন। অনেকেই বিশাল জাতীয় পতাকা বহন করে অংশ নেন।

শোভাযাত্রা শেষে আন্তর্জাতিক শান্তি মহাসমাবেশে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানবজাতির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত। তার শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণ করে আমরা সমাজে ন্যায়, মানবিকতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

তিনি বলেন, মুহাম্মদ (সা.) মানুষকে সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও মানবিকতার শিক্ষা দিয়েছেন। বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ, সংঘাত ও অস্থিরতার মধ্যে তার আদর্শ ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে বাস্তবায়ন করা জরুরি।

শান্তি সমাবেশে মুসল্লিদের ঢল (ছবি: নাসিরুল ইসলাম)

তিনি বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবীর তাৎপর্য শুধু আনুষ্ঠানিক উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মহানবী (সা.) এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে সহমর্মিতা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

আন্তর্জাতিক শান্তি মহাসমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন শাহজাদা সৈয়দ মেহেবুবে মইনুদ্দীন, মইনীয়া যুব ফোরামের সভাপতি শাহজাদা সৈয়দ মাশুক মইনুদ্দীন, গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর এমিরেটস ড. আনিসুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আখতারুজ্জামান, আনজুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার সাধারণ সম্পাদক খলিফা আলমগীর খান, মাওলানা মুফতী বাকি বিল্লাহ আজহারী ও মাওলানা রুহুল আমিন ভূঁইয়া প্রমুখ।

এছাড়া রাজধানীতে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে জশনে জুলুস ও মিলাদ-মাহফিলের আয়োজন করা হয়।