বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে আরও নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত করা নিয়ে আলোচনা চলছে অনেকদিন ধরে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তিতে বোয়িংয়ের ২১টি উড়োজাহাজ কেনার শর্ত আছে। সেই অনুযায়ী গত ৩০ এপ্রিল ঢাকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আনুষ্ঠানিকভাবে বোয়িং এর সাসঙ্গে চুক্তি সই করেছে। চুক্তি অনুযায়ী ১৪টি বোয়িং কেনা হবে। প্রথম উড়োজাহাজ আসবে ২০৩১ সালের নভেম্বরের মধ্যে, বাকিগুলো ২০৩৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে সরবরাহ করা হবে। তবে এর বাইরে আরও বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার কথা জানিয়েছে সরকার। প্রশ্ন উঠেছে, আসলে কতটি বোয়িং উড়োজাহাজ প্রয়োজন বাংলাদেশের।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিমানের বহরে ১৪টি বোয়িং এবং ৫টি ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ আছে। তবে বিমানের বহরে কোনও এয়ারবাস নেই।
নতুন চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের আরও উড়োজাহাজ কিনতে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ। গত রবিবার (৩০ আগস্ট) রাতে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া-বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত এবং ভারতে দেশটির রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর নিজের এক্স পোস্টে এ তথ্য জানান। এ সপ্তাহে বোয়িংয়ের কেনাকাটা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে একটি ‘অভূতপূর্ব সমঝোতা’ হয়েছে বলেও সার্জিও গোর উল্লেখ করেন। তবে উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে বাংলাদেশ নতুন করে কতগুলো উড়োজাহাজ কিনতে যাচ্ছে, সেটি সার্জিও গোর তার পোস্টে উল্লেখ করেননি।
কূটনৈতিক সূত্র বলছে, বাংলাদেশ আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনতে পারে। এ বিষয়ে বোয়িংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।
প্রসঙ্গত, গত এপ্রিলে করা চুক্তি অনুযায়ী, আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ও চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স জেট উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই ১৪টি উড়োজাহাজের বাজারমূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, কোনও চাপে নয়, বাংলাদেশের এভিয়েশনের চাহিদা অনুযায়ী নতুন বিমান কেনা হচ্ছে।
তিনি বলেছেন, ‘‘আমাদের গুরুত্বপূর্ণ গেটওয়ের ক্ষেত্রে আরও রুটে পরিষেবা দেওয়া দরকার। এ জন্য আমাদের আরও বিমানের প্রয়োজন আছে। ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের ১৫০টির বেশি বিমান আছে। সেই জায়গায় আগামী ১০-১৫ বছরের মধ্যে আমাদের ডিমান্ড আছে ৭০-৮০টির মতো। কিন্তু আমরা সেই অনুযায়ী অর্ডার করিনি, তবে অবশ্যই আমরা আরও বিমান কিনবো। আমাদের এয়ারবাসও প্রয়োজন আছে, প্রয়োজন অনুযায়ী। নীতিগত চুক্তি অনুযায়ী আমাদের তো আরও কিনতে হবে।’’
কোনও চাপে এই সিদ্ধান্ত কিনা জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘কোনও প্রেশারে না, এটা আমাদের এভিয়েশনের ডিমান্ড অনুযায়ী। আমাদের পর্যাপ্ত বহর নেই, আমাদের বহরের ক্ষমতা বাড়ানো দরকার। অন্যথায়, আমরা পরিষেবা দিতে পারছি না, আমরা নতুন রুট খুলতে পারি না, অর্থ হারাচ্ছি। যদি আমরা তা না করি, যদি আমরা বিমান না কিনি এবং যদি আমরা আমাদের গেটওয়ের নেটওয়ার্ক রুটগুলো প্রশস্ত করি— তবে ঢাকায় যাত্রীদের চাপ বাড়বে। এটি আমাদের এভিয়েশনের দীর্ঘমেয়াদি টার্নওভার বাড়বে।’’
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘‘ওয়াশিংটনের সঙ্গে আমাদের একটা ভালো সম্পর্ক আছে। আপনারা জানেন, বেইজিংয়ের সঙ্গেও আমাদের ভালো সম্পর্ক আছে। বাংলাদেশের উন্নয়নের সঙ্গে এই সম্পর্ক জড়িত। আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বিনিয়োগ চাই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের তো চুক্তি আছেই— আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত বিমান কিনবো। বাংলাদেশকে আমরা এশিয়ার ভেতর একটা এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়তে চাচ্ছি।’’