ঢাকায় কোরিয়ার ভিসা আবেদন কেন্দ্র চালু

বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল করতে ঢাকায় অত্যাধুনিক ভিসা আবেদন কেন্দ্র চালু করেছে ভিএফএস গ্লোবাল।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বনানীতে নতুন এই ভিসা আবেদন কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন এবং ভিএফএস গ্লোবালের দক্ষিণ এশিয়ার চিফ অপারেটিং অফিসার ইউমি তালওয়ার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের দূতাবাসের অন্যান্য বিশিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

ইউমি তালওয়ার বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়ার ভিসা আবেদন কেন্দ্র চালু করা বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের ভ্রমণকারীদের ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার অভিজ্ঞতা উন্নত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। প্রশস্ত, আধুনিক ও কেন্দ্রীয়ভাবে অবস্থিত এই কেন্দ্র আবেদনকারীদের জন্য আরামদায়ক ও সুবিধাজনক পরিবেশ নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষিত গ্রাহকসেবা প্রতিনিধিরা আবেদনকারীদের পুরো প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে সহায়তা করবেন।’

নতুন এই কেন্দ্র চালুর ফলে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের দক্ষিণ কোরিয়ার ভিসা আবেদনকারীরা অনলাইনে পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে ঢাকায় এসে সহজেই তাদের আবেদন জমা দিতে পারবেন। এ বিষয়ে ভিএফএস গ্লোবাল জানিয়েছে, প্রযুক্তিনির্ভর ও নিরাপদ সেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত নতুন কেন্দ্রটি কোরিয়ার ভিসা আবেদনকারীদের জন্য আরও উন্নত, সহজ ও কার্যকর আবেদন অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে।

প্রসঙ্গত, ভিএফএস গ্লোবাল ২০১১ সাল থেকে দক্ষিণ কোরিয়া প্রজাতন্ত্র সরকারের বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সেবা দিয়ে আসছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি পাঁচটি দেশে ৭টি নিবেদিত ভিসা আবেদন কেন্দ্রের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার ভিসা সেবা পরিচালনা করছে।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্রযুক্তির উন্নয়ন, গ্রহণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে তারা দায়িত্বশীল পদ্ধতি অনুসরণ করে এবং নৈতিকতা ও টেকসই কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেয়। বিশ্বের ৭১টি সরকারের বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে ভিএফএস গ্লোবাল ১৬৯টি দেশে ৪ হাজার ২০০টিরও বেশি আবেদন কেন্দ্র পরিচালনা করছে। ২০০১ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি ৫৫ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি আবেদন দক্ষতার সঙ্গে প্রক্রিয়াজাত করেছে।

ভিসার আবেদন যেভাবে

দক্ষিণ কোরিয়ার সাধারণ ভিসার জন্য প্রথমে ভিসার ধরন অনুযায়ী ক্যাটাগরি নির্বাচন করে আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় সহায়ক কাগজপত্র প্রস্তুত করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে।  অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিসা আবেদন কেন্দ্রের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বুক করতে হবে।

প্রত্যেক আবেদনকারীকে আলাদা অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। পরিবারের সদস্য বা একই গ্রুপের একাধিক আবেদনকারী একটি অ্যাপয়েন্টমেন্টের আওতায় আবেদন জমা দিতে পারবেন না। প্রত্যেককে পৃথকভাবে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে ভিসা আবেদন কেন্দ্রে যেতে হবে।

নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভিসা আবেদন ফর্ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে এবং প্রযোজ্য ভিসা ফি ও সার্ভিস ফি পরিশোধ করতে হবে।

ভিসা ফি কত

ভিসার ধরন ও থাকার সময় অনুযায়ী ৪০, ৬০, ৭০ অথবা ৯০ মার্কিন ডলার ভিসা ফি দিতে হবে। এর সঙ্গে প্রতি আবেদনে ভিসা আবেদন কেন্দ্রের সার্ভিস ফি ২ হাজার ১৫০ টাকা।

ভিসা আবেদন কেন্দ্র চালুর পর প্রাথমিকভাবে প্রায় দুই সপ্তাহ সার্ভিস ফি নগদে পরিশোধ করতে হবে। এরপর অনলাইনে অগ্রিম সার্ভিস ফি দেওয়া যাবে।

ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদন বাতিল কিংবা মাল্টিপল এন্ট্রির পরিবর্তে সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হলেও ভিসা ফি ফেরতযোগ্য নয়।

আবেদন ট্র্যাক করবেন যেভাবে

ভিসা আবেদন কেন্দ্রের ওয়েবসাইটে থাকা অ্যাপ্লিকেশন ট্র্যাকিং সার্ভিসের মাধ্যমে আবেদনকারীরা তাদের আবেদনের অবস্থা জানতে পারবেন। ভিসা মূল্যায়ন শেষ হলে নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন কেন্দ্র থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে।

দূতাবাস জানিয়েছে, ভিসা আবেদন কেন্দ্র ভিসা ইস্যু বা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নেয় না। এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাসই নিয়ে থাকে।

নোটারাইজেশন ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটসংক্রান্ত সেবা আগের মতোই দূতাবাস থেকে দেওয়া হবে। ভিসা আবেদন কেন্দ্র চালুর শুরুতে অ্যাপয়েন্টমেন্টের চাহিদা বেশি হতে পারে বলে আবেদনকারীদের আগাম অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস।