বাংলা ট্রিবিউন ও ঢাকা ট্রিবিউন কার্যালয় পরিদর্শনে সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের সিডিএ

দেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন ও জাতীয় দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউন কার্যালয় পরিদর্শনে এসেছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (সিডিএ) মিশেল লী। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে তিনি প্রতিষ্ঠান দুটির আমন্ত্রণে আসেন। তিনি পত্রিকা দুটির বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং পত্রিকার কাজের প্রশংসা করেন। এসময় ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ, বাংলা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক উদিসা ইসলামসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।   

উভয় সম্পাদকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় মিশেল লী বলেন, বাংলাদেশের অনেক সম্ভাবনা আছে। সেগুলোকে কাজে লাগানো অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। ২০২২ সাল থেকে এই আলোচনা শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত দুটি বৈঠক হয়েছে। আগামী মাসে সিঙ্গাপুরের বাণিজ্যমন্ত্রী ঢাকা সফর করবেন, তখন এফটিএ নিয়ে তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই তৃতীয় বৈঠকটি এই চুক্তির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।” 

দেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন ও জাতীয় দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউন কার্যালয় পরিদর্শনে এসেছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (সিডিএ) মিশেল লী

সিডিএ জানান, আমরা একটি এফটিএ করেছি সর্বনিম্ন ১৮ মাস সময় নিয়ে। সেটা হয়েছে ২০১৮ সালে শ্রীলংকার সঙ্গে। সুতরাং বাংলাদেশকে এই চুক্তির বিষয়ে ফোকাস আরও জোরদার করা উচিত। আমরা যেন চতুর্থ বৈঠকের জন্য আরও এক বছর অপেক্ষা না করি।

মিশেল লী বলেন, “সিঙ্গাপুরের উন্নয়নের সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মীরা জড়িয়ে আছে। সিঙ্গাপুরে অনেক উন্নয়ন কাজ হচ্ছে এবং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নেওয়া অব্যাহত থাকবে।”

সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগকারিদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এর জন্য প্রকৃত বাজার অনুসন্ধান করতে হবে। সিঙ্গাপুরের অনেক না হলেও বেশ কিছু নিজস্ব ব্র্যান্ড আছে তৈরি পোশাকের, সেগুলো নিয়ে বাংলাদেশ কাজ করতে পারে। এছাড়া চামড়াজাত পণ্যের নিজেদের ব্র্যান্ড আছে আমাদের, এমনকি সেটা আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডও বটে। এগুলা জায়গা বাংলাদেশ খতিয়ে দেখতে পারে।” 

তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়ে আরও কাজ করতে হবে। সিঙ্গাপুরে নারী ও শিশুরা গভীর রাতে অনুষ্ঠান সানন্দে করতে পারে। অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে ট্যাক্সি ক্যাবে ফোন ভুল করে ফেলে রেখে গেলেও সেটা ফেরত পাওয়ার সুযোগ আছে। সিঙ্গাপুর আইনশৃঙ্খলা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।”  

মিশেল লী জানান, আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করে খাদ্যপণ্য বছর জুড়ে রফতানির সুযোগ আছে। তবে সেগুলোর জন্য বাংলাদেশকে যথাযথ বাজার অনুসন্ধান করতে হবে।          

তিনি বলেন, “মানুষে মানুষে যোগাযোগ বাড়াতে ঢাকা সিঙ্গাপুরের মধ্যে ফ্লাইট বৃদ্ধি করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স সামনে দিনের বেলা আরেকটি ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সিভিল অ্যাভিয়েশনের সঙ্গে কাজ করছে।” 

সিঙ্গাপুর সরকার জলাবদ্ধতা রোধে ড্রোনের মতো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছে বলে জানান সিডিএ। এজন্য একসময় বৃষ্টিতে সিঙ্গাপুর শহর তলিয়ে গেলেও এখন আর তা হয় না। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ চাইলে আমাদের প্রযুক্তি অনুসরণ করে নির্দিষ্ট এলাকায় পাইলট প্রোগ্রাম করে দেখতে পারে।” 

মিশেল লী বলেন, “ড্রেনেজ সিস্টেমের উন্নয়নে এবং মেইনটেনেন্সের কাজে আমরা ব্যাপক বিনিয়োগ করেছি। আমরা ড্রোন, প্রযুক্তি, ক্যামেরা ব্যবহার করে জলাবদ্ধতা খুঁজে বের করে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেই। এটা খুব সহজ কাজ এবং কোনও রকেট সায়েন্স না। বাংলাদেশও চাইলে করতে পারে।”