২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ধানমন্ডি লেকে কী কী সংস্কার হবে?

রাজধানীর ধানমন্ডি লেকের নাব্যতা ও নান্দনিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পুনর্খনন (ড্রেজিং) ও সামগ্রিক উন্নয়নকাজ শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। প্রায় ১ বছর মেয়াদি এই পুনর্খনন কাজের প্রাথমিক প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬ কোটি টাকা। প্রশ্ন উঠেছে এতো টাকা ব্যয়ে কী কী সংস্কার করবে সিটি করপোরেশন? 

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬০-এর দশকে পুরোনো পাণ্ডু নদীর অবশিষ্টাংশ নিয়ে গড়ে ওঠা প্রায় ৮৬ একরের এই স্থানে বর্তমানে জলাশয়ের পরিমাণ ৫৫ একর। ৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৫৬ মিটার গড় প্রস্থের এই লেকে জমা হওয়া প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৩৪ ঘনমিটার স্লাজ (কাদা ও বর্জ্য) অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৭০০ ঘনমিটার স্লাজ অপসারণে ২টি ভাসমান এক্সেভেটর ও ৪টি বার্জ ব্যবহার করা হবে। 

প্রকল্পের বিস্তারিত পটভূমি ও সুযোগ-সুবিধা

বছরের পর বছর ধরে সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতা, অবকাঠামোগত ক্ষয় ও পরিবেশগত ক্ষতি দূর করে ধানমন্ডি লেক পুনরুদ্ধার এবং আধুনিক বিনোদনকেন্দ্রে রূপ দিতে ডিএসসিসি মোট ৭৫ কোটি টাকার মাস্টারপ্ল্যান হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে ৫০ কোটি টাকা লেক ও অবকাঠামো সংস্কারে এবং ২৫ কোটি টাকা ‘নজরুল সরোবর’ (বিদ্রোহী চত্বর) নির্মাণে ব্যয় হবে।

প্রস্তাবিত উন্নয়ন ও সুবিধার তালিকা 

অবকাঠামো ও নিরাপত্তা: লেকের পাড় সুরক্ষা ও ঢাল স্থিতিশীলকরণ, আধুনিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা, হাঁটার পথ সংস্কার, আলোকসজ্জা, সীমানাবেষ্টনী ও নিরাপত্তা রেলিং মেরামত। সিসিটিভি ক্যামেরা, এনাউন্সমেন্ট সিস্টেম এবং নির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন।

বিনোদনের নতুন ব্যবস্থা: ৩টি ভাসমান ডেক, কিয়স্ক, আধুনিক জিম, ক্যাফেটেরিয়া, ব্যাডমিন্টন কোর্ট, উন্মুক্ত ব্যায়ামাগার এবং পার্কিং সুবিধা। 

পরিবেশ ও সেবা: উদ্ভিদের চিকিৎসায় বিশেষায়িত ‘ট্রি হাসপাতাল’, নিরাপদ খাবার পানি এবং জনবান্ধব শৌচাগার।

‘নজরুল চত্বর’ (বিদ্রোহী চত্বর) 

কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের ঠিক বিপরীতে ধানমন্ডির ১৩/এ ও ৮/এ সড়কের পাশে ৫০ দশমিক ৯৬৭ কাঠা জমিতে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সাংস্কৃতিক পরিসর গড়ে তোলা হবে। এতে থাকবে— 

  • নজরুলসংগীত, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনার জন্য উন্মুক্ত অ্যাম্ফিথিয়াটার ও গ্রিনরুম।
  • নজরুলের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও বিদ্রোহী চেতনাভিত্তিক বুক কর্নার, লাইব্রেরি, তথ্যফলক, নগর বন, প্লাজা ও লেকের ঘাট।
  • কবি কাজী নজরুল ইসলামের পছন্দের খাবার পরিবেশনকারী বিশেষ রেস্তোরাঁ ও ক্যাফে।

লেকের তলদেশ স্লাজমুক্ত করার পরপরই মূল সংস্কার ও নজরুল সরোবরের কাজ একযোগে বাস্তবায়ন করা হবে। 

ধানমন্ডি লেক পুনর্খননের বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘ধানমন্ডি লেকের সার্বিক উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আমার নির্বাচনি অঙ্গীকার ছিল। প্রধানমন্ত্রী এ সংক্রান্ত দুটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন, যার প্রথম ধাপ হিসেবে আজ লেকের স্লাজ অপসারণ কাজ শুরু হলো। ডিটেইল ডিজাইন অনুযায়ী পুরো লেক সংস্কার করা হবে।’ 

এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘লেকের তলদেশ পরিষ্কারের পরপরই পানি শোধন, সাইডওয়াল সংস্কার, ওয়াকওয়ে আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ, সৌন্দর্যবর্ধন এবং লাইটিংয়ের কাজ শুরু হবে। শিশুদের জন্য স্পিডবোটের সুযোগসহ পুরো ধানমন্ডি এলাকার রাস্তা, ফুটপাত ও সার্বিক অবকাঠামো সাজানো হবে। এছাড়া রবীন্দ্র সরোবরের মতো এখানে ‘নজরুল সরোবর’ নামে একটি আধুনিক উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।’