মেট্রোরেলের পিলারে জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়ার ছবিসহ যা যা থাকছে

রাজধানীর মেট্রোরেলের পিলারে আবারও আঁকা হচ্ছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গ্রাফিতি। মিরপুর-১২ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত পিলারগুলোতে গ্রাফিতি আঁকার নতুন কর্মসূচি শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছবি, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রতিকৃতি এবং মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন চিত্র স্থান পাচ্ছে। পাশাপাশি থাকছে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক বার্তা ও সবুজ ঢাকা গড়ার বার্তা।

ডিএনসিসির উদ্যোগে এই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘লেটস রিমেক জুলাই গ্রাফিতি’। নগরবাসীর অংশগ্রহণে মেট্রোরেলের পিলারগুলোতে জুলাইয়ের গ্রাফিতি নতুন করে আঁকার মাধ্যমে নগরকে সাজিয়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

পিলারগুলোতে নতুন করে আঁকা হচ্ছে গ্রাফিতি (ছবি: আবির আহমেদ সুপ্ত)

গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে মিরপুর-১০ গোলচত্বরের ২৪৮ নম্বর পিলারে রং করার মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসক বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পেছনে খালেদা জিয়ার সবচেয়ে বেশি অবদান রয়েছে। সেই কারণে সিদ্ধান্ত হয়েছে, খালেদা জিয়ার ছবি মেট্রোরেলের পিলারের গ্রাফিতিতে আঁকা হবে।

থাকছে ‍জুলাই শহীদদের গ্রাফিতিও (ছবি: আবির আহমেদ সুপ্ত)

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো রাজনীতিকরণ করা হবে না। যাঁরাই দেশের গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করেছেন, যাঁরা জুলাই আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন; ছাত্রদলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের ছবি পর্যায়ক্রমে প্রতিটি পিলারে আঁকা হবে।’

ডিএনসিসি জানায়, গত বছর আঁকা অনেক গ্রাফিতি বৃষ্টি ও ধুলায় নষ্ট হয়ে গেছে। বাংলাদেশের ইতিহাস রচনায় আত্মত্যাগকারীদের অবদান স্মৃতিতে ধরে রাখতেই এই রিমেক ক্যাম্পেইন। এতে নগরবাসীকেও অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন চিত্রও ফুটিয়ে তোলা হবে মেট্রোরেলের পিলারে (ছবি: আবির আহমেদ সুপ্ত)

মেট্রোরেলের পিলারে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একাধিক গ্রাফিতি থাকছে। তাঁর একটি গ্রাফিতিতে লেখা হচ্ছে ‘মহান স্বাধীনতার ঘোষক’। আরেকটিতে লেখা হয়েছে, ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ’।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গ্রাফিতির জন্য নির্ধারিত পিলার (ছবি: আবির আহমেদ সুপ্ত)

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ারও বেশ কয়েকটি গ্রাফিতি থাকছে। তাঁর ছবির নিচে লেখা হচ্ছে, ‘স্বৈরতন্ত্র নয়, আমরা গণতন্ত্র চাই’ এবং ‘আমি যেমন থাকি যেখানেই থাকি যতক্ষণ বেঁচে থাকবো, দেশবাসীকে ছেড়ে যাবো না’। অন্য একটি গ্রাফিতিতে তাঁর ছবির নিচে লেখা হচ্ছে, ‘ক্ষমতা নয়, দায়িত্ব বড়’। আরেকটিতে লেখা হয়েছে, ‘গণতন্ত্র ও উন্নয়ন পরস্পরকে শক্তিশালী করে’।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার গ্রাফিতিতে থাকছে তাঁর নানান বক্তব্য (ছবি: আবির আহমেদ সুপ্ত)

এ ছাড়া রক্তাক্ত বাংলাদেশের মানচিত্রের ওপর ‘রিমেমবারিং জুলাই’ লেখা গ্রাফিতি থাকছে। জুলাই আন্দোলনের মিছিলের ছবিতে লেখা হয়েছে, ‘১ দফা ১ দাবি, হাসিনা তুই কবে যাবি’। জুলাই আন্দোলনের শহীদ মুগ্ধসহ অন্যদের ছবি এবং তার ওপরে ‘রাজপথ রক্তে রাঙা’ লেখাও থাকছে।

মেট্রোরেলের পিলারে গ্রাফিতি (4)
জুলাই আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার চিত্র তুলে ধরে একটি গ্রাফিতি আঁকা হচ্ছে। সেখানে লেখা, ‘যদি তুমি ভয় পাও তবে তুমি শেষ, যদি তুমি রুখে দাঁড়াও তবে তুমি বাংলাদেশ’। এ ছাড়া রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাইদের দুই হাত প্রসারিত ছবিও থাকছে।

থাকছে পরিবেশ রক্ষার বিভিন্ন বক্তব্যও (ছবি: আবির আহমেদ সুপ্ত)

অন্য একটি গ্রাফিতিতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি থাকছে ডেঙ্গু নিয়ে সচেতনতামূলক বার্তা এবং গ্রিন ঢাকার বার্তা।